রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিথ্যা ছবির অপপ্রচারণা প্রভূত উদ্বেগ

মীর মোশাররেফ হোসেন পাকবীর : দীর্ঘ এক বছর পার হয়ে যাবার পরেও নিজ দেশে যে ভূমিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই মাটিতে বসবাসের অধিকার হারা প্রায় ৭.৫ লক্ষ রোহিঙ্গার ভাগ্য এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। মায়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী বৌদ্ধদের দ্বারা জঘন্যভাবে নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেবার জন্য বাংলাদেশ তার দরজা খুলে দেওয়ায় খুব দ্রুত এদের সংখ্যা বিশাল আকার ধারণ করে এবং লাখ লাখ মানুষ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্থায়ী আবাস গড়ে তোলে।

এই নারী-পুরুষ শিশুরা তাদের বাড়িঘর, জমিজমা, সম্পত্তি ও জীবন পরিত্যাগে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতি মায়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া নিকৃষ্টতম গণহত্যা যা অগণিত জীবন কেড়ে নিয়েছে তার সাপেক্ষে উদ্ভূত হয় এবং জাতিসংঘ যথার্থই একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যায়িত করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাজারও প্রমাণ প্রকাশের পরেও মায়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী বারে বারেই তাদের এই ঘৃণ্য কর্মকা-কে অস্বীকার করে আসছে। আশংকাজনকভাবে মায়ানমার সেনাবাহিনী একটি বই প্রকাশের মাধ্যমে তাদের কর্মকা-কে যথার্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এই বইয়ে কিছু জাল বা মিথ্যা ছবি রয়েছে যেখানে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের দ্বারা মায়ানমারের স্থানীয় বৌদ্ধদের একইভাবে নির্যাতিত হতে দেখা যায় এবং বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারে বাঙ্গালীদেরকে অনুপ্রবেশ করতে দেখা যায়। এই কাজের মাধ্যমে শুধুমাত্র এই ঘৃণ্য জাতিগত নিধনকে অস্বীকারই নয় বরং এই সমস্যাটি সমাধানে তাদের অনিচ্ছাই প্রকাশ পায়।

সর্বশেষ অনুপ্রবেশের এক বছর পূর্ণ হবার সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা জাতিসংঘ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই সমস্যাটি উঠে আসে এবং এর প্রেক্ষিতে দৃঢ় বিবৃতিও জারি করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মায়ানমারের উপর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য চাপ আসেনি। এই বছরের দোসরা জুলাই, ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন ইয়ং কিমকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস কক্সবাজারের বেশ কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা মায়নমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন ও কথা বলেন। এই দুর্ভাগা রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থার পেছনে কারণ হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব আবারও ‘জাতিগত নিধন’-কেই উল্লেখ করেন। কিন্তু এখনও এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি যার বিপরীতে মায়ানমারও কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এটা সত্যি যে, সাম্প্রতিক চলমান ঘটনাগুলো মায়ানমারকে কিছুটা বিচলিত করেছে। যার ফলে তারা তাদের ভুল কাজগুলোর যথার্থতা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক অত্যাচার যার মাধ্যমে হাজার হাজার পুরুষদের শিরচ্ছেদ, নারীদের ধর্ষণ, শিশুদের হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর ক্রমবর্ধমান ঘৃণার জবাবে মায়ানমার সেনাবাহিনী একটি নতুন বই প্রকাশ করেছে। মায়ানমার সেনাবাহিনীর অপপ্রচারণাকারীদের লেখা রোহিঙ্গা সংকটের উপরে এই বইটিতে বেশ কিছু ভুয়া ছবি ব্যবহার করে ইতিহাসের একটি ভয়াবহ রূপান্তর করা হয়েছে। এটি গত এক বছর ধরে সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর আক্রমণের মাধ্যমে হাজারও রোহিঙ্গাকে হত্যার পেছনে একটি যুক্তি প্রদানের চেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয় যদিও জাতিসংঘ একে গণহত্যা বলেই চিহ্নিত করেছে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর ‘জনসংযোগ ও মানসিক যুদ্ধ’ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এই ১১৭ পৃষ্ঠার বইটিতে কিছু ছবি ধারণ করা হয়েছে যেগুলোকে তারা ‘দালিলিক ছবি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বইটির অন্তর্ভূক্ত আটটি ছবির মধ্যে তিনটি ঐতিহসাকি ছবির উল্লেখিত ইতিহাস ভুয়া ও মিথ্যা বলে উঠে আসে।

বইটি দাবি করে যে, ছবিগুলো মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে চিত্রায়িত। কিন্তু, বাস্তবে তাদের একটি বাংলাদেশে আর একটি তাঞ্জানিয়ায় তোলা হয়েছিল। আর তৃতীয় ছবিটি মিথ্যাভাবে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা মায়ানমারে প্রবেশ করছে বলে দাবি করে যদিও সত্যিকার অর্থে সে ছবিতে রোহিঙ্গারা মায়ানমার ছেড়ে যাবার চেষ্টা করছিল। একটি ছবিতে কৃষিকাজের হাতিয়ার হাতে এক ব্যক্তিকে দুটি ভাসমান দেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা আছে যে, ছবিতে ১৯৪০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রোহিঙ্গাদের হাতে বৌদ্ধদের হত্যা। কিন্তু রয়টার্সের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, এটি আসলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে তোলা ছবি। সে যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে লাখ লাখ বাংলাদেশী প্রাণ হারায়।

আরেকটি ছবির ক্যাপশন ছিল ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা মায়ানমারের নিচের অংশ দখল করে নেওয়ার পর বাঙ্গালিরা দেশে প্রবেশ করে’। এই ছবিতে জনতার একটি দলকে দূর থেকে হেঁটে আসতে দেখা যায় যাদের পিঠগুলো পণ্য বহনের কারণে বেঁকে রয়েছে। এই ছবিটির মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে যা ১৯৪৮ সালে শেষ হয়ে যায়, রোহিঙ্গারা মায়ানমারে প্রবেশ করছে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রয়টার্স খুঁজে পায় যে, এই ছবিটি ১৯৯৬ সালে পিটসবার্গ পোস্ট গেজেটের জন্য মার্থা রিয়ালের তোলা একটি রঙ্গিন ছবির অস্পষ্ট অভিযোজন। এই ছবিটি আসলে ছিল রোয়ান্ডায় গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের।

তৃতীয় ছবিটিও সাদাকালো এবং এর ক্যাপশন ছিল ‘জলপথে বাঙ্গালিরা মায়ানমারে প্রবেশ করছে’। এতে দেখা যায় একটি ‘রিকেটি বোট’-এ লোকজন চড়ে রয়েছে। বাস্তবে আসলে ছবিটিতে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অভিবাসীদেরকে ২০১৫ সালে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। ঐ সময়ে লাখ লাখ মানুষ মায়ানমার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া চলে যায়। মূল ছবিটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে যাতে করে স্পষ্ট বোঝা না যায়। অত্যন্ত হাস্যকর বিষয় হলো যে, ছবিটি মায়ানমারেরই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জোগাড় করা হয়। কোনো দেশের সরকার বা সেনাবাহিনীর এরকমভাবে মিথ্যা ছবি ব্যবহার থেকেই বোঝা যায় যে, তারা কতটা ঘৃণিত কাজকে লুকোবার চেষ্টা করছে।

রয়টার্স কর্তৃক এই লজ্জাজনক মিথ্যে ছবি ব্যবহার করার কা- বিশ্বব্যাপী প্রকাশ হয়ে পড়লে মায়ানমার সেনাবাহিনী তেসরা সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে একটি বিরল ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা স্বীকার করে যে, রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের সমস্যার উপরে প্রকাশিত বইটিতে ছাপা দুইটি ছবি ‘ভুলবশত প্রকাশিত’ হয়। এখনও তারা তৃতীয় ছবিটির অপব্যবহার স্বীকার করেনি।

মায়ামনমার সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গাদের মাধ্যকার বিরোধের ইতিহাস সুদূর অতীতে নিহিত। বার্মায়- যা কিনা আজকের মায়ানমার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রোহিঙ্গা মুসলমানেরা ব্রিটিশ বাহিনীর সহযোগী ছিল যার বিপরীতে তাদেরকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে স্থানীয় বৌদ্ধরা জার্মান নাৎসি বাহিনীর সহযোগী জাপানীজ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়। ফলস্বরূপ, রোহিঙ্গা মুসলিম এবং স্থানীয় বৌদ্ধদের মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ সংঘর্ষ হয়। কিন্তু সেটি যুদ্ধেরই একটি অংশ ছিল এবং প্রতিশোধ হিসেবে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কোনো গণহত্যাকে যথার্থতা প্রদান করার সুযোগ এটির নেই।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর সংখ্যা গরিষ্ঠ বৌদ্ধ দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গাদের দেশটির নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। রোহিঙ্গারা নিজ দেশেই ব্যাপক পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মায়ানমারের সামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়।

এই রোহিঙ্গারা, যাদের বেশিরভাগই মুসলমান এবং অল্প কিছু হিন্দু, দীর্ঘ সময় ধরে বৈষম্যের মাসেই বেঁচে আছে। মায়ানমার জাতীয়তা আইন ১৯৮২ অনুসারে রোহিঙ্গা জনগণকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। জাতিসংঘ ২০১৩ সালে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে। যুগ যুগ ধরে তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী অং সান সু চি-এর দল মায়ানমার সরকারের ক্ষমতা নেবার পর অনেক উচ্চ প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়। রোহিঙ্গারা বিশ্বাস করেছিল যে তিনি তাদের কল্যাণার্থে কাজ করবেন। কিন্তু বাস্তবে, সু চি দেশটির স্টেট কাউন্সিলর পদে আসীন থাকা কালেই রোহিঙ্গাদের উপর ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও নিষ্ঠুর আক্রমণ চালানো হয়।

এই গণহত্যা চলার পুরোটা সময় সু চি নীরব ছিলেন এবং যখনই তিনি কথা বলেছেন তখনই সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টাই করেছেন। তিনিই সেনাবাহিনীকে তার দেশ থেকে ৭.৫ লাখ মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে বের করে দিতে দিয়েছেন এবং তার এই ন্যাক্কারজনক ভূমিকার জন্য সারাবিশ্ব তার সমালোচনায় মুখর হয়। তাকে দেওয়া অনেক সম্মাননা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়- যদিও নোবেল পদকটি এখনও বিদ্যমান যা বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজক এই পুরস্কারটির জন্যই কলঙ্কজনক।

বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতায় এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় খুঁজে পায়। তারা প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে। এই লোকগুলোকে পূনর্বাসন করার প্রতিটি ধাপে নানান দেশ ও দাতাসংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করে এসেছে। এখন এমনকি শিশুদেরকে শিক্ষাও প্রদান করা হচ্ছে। রোহিঙ্গারা এখন অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে মোটামুটিভাবে নিজেদেরকে স্থির করতে পেরেছে কিন্তু তাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার নানা সুবিধার সেখানে যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশ নিজেই একটি অত্যন্ত জনবহুল দেশ হবার পরেও এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদেরকে চমৎকারভাবে ধারণ করে তাদের অস্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু তাদের পুনর্বাসন এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহায়তা করার ক্ষমতা যে আমাদের অত্যন্ত সীমিত এটি অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। এর জন্য আমাদের বাইরের সাহায্য দরকার যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাই তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মায়ানমারের সরকার প্রধানকে অনুরোধ করার পরেও তাদের এই সমস্যা সমাধানে কোনো দৃশ্যমান মাথাব্যথা নেই।

যখন আমরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে মায়ানমারে ফেরত পাঠাবার উপায় নিয়ে চিন্তা করছি, তখন মায়ানমার সেনার অপপ্রচারণাকারীরা ভুয়া ছবি ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্মের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু ঘটনার সঙ্গে এই গণহত্যাকে সম্পর্কিত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের সেনাপ্রধানও একবার ইঙ্গিত করেছিল যে, রোহিঙ্গাদের সমূলে উৎপাটন একটি প্রতিশোধমূলক কাজ এবং তাদের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসী বাহিনীর মতোই কাজ করছে এবং তাই তাদের একই রকম কঠোরতার সঙ্গে শাস্তি দেওয়া উচিৎ।

এই লজ্জাজনক ঘটনার পর এই শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আর মায়ানমারের উপর নির্ভর করতে পারি না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই বর্বরোচিত কর্মকান্ডকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নেবার একটি সিদ্ধান্ত সম্প্রতি গ্রহণ করে যা রোহিঙ্গাদেরকে তাদের উপর হওয়া অত্যাচার ও নিপীড়নের বিচার হবার একটি নতুন পথ উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে আদালত মায়ানমার সেনাবাহিনীকে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিতে সমর্থ হয় যে, তাদের কৃতকর্মের দায় অবশ্যই তাদেরকেই নিতে হবে। সু চি কেও অবশ্যই এই বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে যদি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনগুলো মায়ানমার সরকারের উপর শক্ত চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়, তাহলে আর এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। এই শরণার্থীদেরকে তাদের বঞ্চনাময় জীবনের কষ্ট থেকে মুক্ত করতে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, মায়ানমার মানবাধিকার বা বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের কোনো পরোয়া করেনা। তাই, এখন বিশ্ববাসী এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে আসলেই কোনো চিন্তা করে কিনা সেটাই দেখাবার সময় এসেছে।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সি (এমএনএ); সম্পাদক, কিশোর বাংলা এবং ভাইস চেয়ারম্যান, ডেমোক্রেসী রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)।

x

Check Also

আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

এমএনএ রিপোর্ট : আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। নবী দিবস। এটি মানবজাতির শিরোমণি। মহানবী ...

Scroll Up