ডাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে বেশিরভাগ সংগঠন জাতীয় নির্বাচনের পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অধিকাংশ ছাত্রনেতা নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবি যৌক্তিক। বৈঠক শেষে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন আগামী মার্চে হতে পারে। এ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার খসড়া অক্টোবরের মধ্যে প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ডাকসু নির্বাচনের দাবি অনেক পুরনো। এ নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শতাব্দীতে- ১৯৯০ সালের জুনে। এরপর ১৯৯৮ সালে ডাকসুর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ২৭ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, অথচ দেশের সেকেন্ড পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত এ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রথমত, ডাকসু অতীতে এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের প্রয়োজনেও নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসু গঠন যে জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসসহ নানা ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যও একটি নির্বাচিত ফোরাম দরকার, যা ছাত্রসমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ ক্যাম্পাসের সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ডাকসু হতে পারে এ ক্ষেত্রে যথার্থ বৈধ ফোরাম। তৃতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণেও ডাকসু একটি প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো হতে পারে। বলা হয়ে থাকে, ডাকসু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্রিডিং গ্রাউন্ড।

এ দেশের অনেক রাজনীতিকেরই রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসব নেতা প্রতিনিধিত্বশীল রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। চতুর্থত, ডাকসুর অবর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাত্রসমাজের দাবি-দাওয়া আদায়ে কোনো স্বীকৃত সংগঠন নেই, যে কারণে ছাত্র সংগঠনগুলো নিজ নিজ নেতৃত্ব ফলাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়, যা কখনও কখনও সহিংসতায় রূপ নেয়। ডাকসু গঠিত হলে গোটা ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সংস্থা গড়ে উঠবে।

কাজেই আমরা আশা করব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মার্চে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে ডাকসু। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একই উদ্যোগ নেয়া হবে, এটাই কাম্য।

x

Check Also

আহলান সাহলান মাহে রমজান

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী গতকাল সারাদেশে কোথাও পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ...

Scroll Up