খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তির নির্দেশ

এমএনএ রিপোর্ট : দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার সুচিকিৎসার জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ বোর্ড গঠনের নির্দেশনা চেয়ে খালেদা জিয়ার করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, খালেদা জিয়া তার পছন্দমত ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল ও একেএম এহসানানুর রহমান প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে খালেদা জিয়ার পক্ষে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য নতুন করে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর তিনজন চিকিৎসক থাকবে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী এবং বাকি দুজন থাকবেন নিরপেক্ষ চিকিৎসক। এছাড়া খালেদা জিয়াকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথাও বলেছেন আদালত।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, এর আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর সরকার যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দিয়েছিল, তার তিন সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন তিনজনকে সেখানে দায়িত্ব দিতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী ও ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ বোর্ডে থাকবেন। আর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলীর বদলে নতুন তিনজনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করবে সরকার। তবে এই তিনজনের কেউ কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে সরকার সমর্থক স্বাচীপ বা বিএনপি সমর্থক ড্যাবের বর্তমান বা সাবেক সদস্য কিংবা সমর্থক হতে পারবেন না।

হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন কি-না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় না। তবে রায়টা দেখে যদি মনে করি যাওয়ার কারণ থাকে সেক্ষেত্রে যাবো। কোর্টে থেকে যা শুনেছি তাতে আমার মনে হয় না যাওয়ার প্রয়োজন আছে।’

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তার আইনজীবীরা। রিটে কারাকর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত করে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওইদিনই তাকে পুরানো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেইদিন থেকে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন। এরই মাঝে গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়েছিল।

x

Check Also

গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলুল হক গ্রেপ্তার

এমএনএ রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির ...

Scroll Up