ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশের বাইরে ১৭ বছর পর টেস্ট জিতল জিম্বাবুয়ে।

প্রতিপক্ষের মাঠে তাদের সবশেষ জয়টিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম টেস্টে জিম্বাবুয়ে জিতেছিল ৮ উইকেটে।

দেশের বাইরে এটি তাদের তৃতীয় জয়। জিম্বাবুয়ের অন্য জয়টি পেশাওয়ারে, ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানকে তারা হারিয়েছিল ৭ উইকেটে।

টাইগারদের এ পরাজয়ের গ্লানি কিংবা হতাশা আরও বেড়ে যাবে যখন জানা যাবে প্রতিপক্ষ দল মাঝের পাঁচ বছর এবং ১৩টি টেস্ট ম্যাচে জিততে পারেনি। এমনকি মুখোমুখি লড়াইয়েও গত পাঁচ বছরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারেনি বাংলাদেশ। এসময়ে দুই দলের মধ্যকার হওয়া চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছিল টাইগাররা।

অথচ ঘরের মাঠে ফেবারিটের তকমা নিয়ে খেলতে নেমেই হলো গলদঘর্ম। দুই ইনিংসেই ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতাপূর্ণ ও হতশ্রী ব্যাটিংয়ের মাশুল দিতে হয়েছে জিম্বাবুয়ের পাঁচ বছরের জয়খরা কাটিয়ে দেয়ার মাধ্যমে।

ওয়ানডে সিরিজে ধবলদোলাই হওয়া জিম্বাবুয়েই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে এক অর্থে উড়িয়েই দিলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসে এটি কেবল দ্বাদশ জয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই তারা জিতেছে সাত বার। আর ঘরের বাইরে এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার জিতলো জিম্বাবুয়ে। সবশেষ ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই বিদেশের মাটিতে জিতেছিল তারা।

চতুর্থ দিন সকালে পুরো দশ উইকেট হাতে রেখে ২৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুটা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়টুকু কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। গড়েছিলেন ম্যাচে টাইগারদের সর্বোচ্চ ৫৬ রানের জুটি।

ইনিংসের ২৩তম ও দিনের ১৩তম ওভারে লিটন সাজঘরে ফেরার পরেই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার পালা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে ইমরুলের ব্যাট থেকে। এছাড়া অভিষিক্ত আরিফুল ব্যতীত বাকি সবাই যেনো করেন প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি।

শেষদিকে ৪ চার ও ২ ছক্কার মারে আরিফুল হকের ৩৮ রানের ইনিংসটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে এবং সিলেটে উপস্থিত দর্শকদের দিয়েছে খানিক আনন্দের খোরাক। প্রথম ইনিংসে ৪১ রানে অপরাজিত থাকা আরিফুল, দ্বিতীয় ইনিংসে সাজঘরে ফিরেছেন দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে।

বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা করতে পারে ১৬৯ রান। এ নিয়ে টেস্টের সর্বশেষ আট ইনিংসে ২০০ রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্টের চিরচেনা সেই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ঘরের মাঠে নিজেদের তৈরি করা স্পিন ফাঁদে পা দিয়ে আটকে গেলো বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজে সাকিব-তামিমের অভাব দেখা না দিলেও টেস্ট এসে অভিজ্ঞতায় টান পড়লো। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এবং সাকিবের বাঁ-হাতের ঘূর্ণি মিস করলো বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানের ভালো সংগ্রহ পায়। ওই ইনিংসে শেন উইলিয়ামস করেন ৮৮ রান। পিটার মুরের ৬৩ এবং অধিনায়ক মাসাকাদজার ৫২ রানে ভালো সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ১৪৩ রানে থাকলে ১৩৯ রানের লিড পায় তারা।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করে ১৮১ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড পায় ৩২১ রানের। ওই রান তুলতে বাংলাদেশের হাতে ছিল দুই দিন। কিন্তু বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের দুটি সেশনই পার করতে পারলো না। মাঠ ছাড়লো ১৫১ রানে হেরে। অভিষেক টেস্টে হার দেখলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

বাংলাদেশ দলের হয়ে দুই ইনিংসে মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান অভিষেক হওয়া আরিফুল হকের। প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ৩৮ রান। বাংলাদেশের ইনিংসে নেই কোন অর্ধশতক।

এই টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র পাওয়া সম্ভবত টেস্টে তাইজুলের প্রথম ১০ উইকেট পাওয়া। দুই ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ১১ উইকেট। জিম্বাবুয়ের হয়ে দুই ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন সিকান্দার রাজা। আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় সিরেজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস : ২৮২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ১৪৩

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস : ১৮১

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ৩২১) ৬৩.১ ওভারে ১৬৯ (লিটন ২৩, ইমরুল ৪৩, মুমিনুল ৯, মাহমুদউ্ল্লাহ ১৬, শান্ত ১৩, মুশফিক ১৩, আরিফুল ৩৮, মিরাজ ৭, তাইজুল ০, অপু ০, আবু জায়েদ ০*; জার্ভিস ১৪-৫-২৯-১, চাটারা ৯-২-২৫-০, রাজা ১৭-১-৪১-৩, উইলিয়ামস ৮-২-১৩-০, মাভুটা ১০-২-২১-৪, ওয়েলিংটন ৫.১-০-৩৩-২)

ফল : জিম্বাবুয়ে ১৫১ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : শন উইলিয়ামস

x

Check Also

আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

এমএনএ রিপোর্ট : আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। নবী দিবস। এটি মানবজাতির শিরোমণি। মহানবী ...

Scroll Up