বোথামকে ছাড়িয়ে সাকিব আল হাসানের বিশ্বরেকর্ড

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : হাতের আঙুলের ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেই রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের জন্মদিনেই ছাড়িয়ে গেলেন তার রেকর্ড।

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে দুইশ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব আল হাসান। একটি রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেলেন ক্রিকেট ইতিহাসের সবাইকে। ৩ হাজার রানের ক্লাবের সদস্য সাকিব হয়েছিলেন বেশ আগেই।

২০০ উইকেট থেকে ৪ উইকেট দূরে দাঁড়িয়ে শুরু করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আজ শনিবার শুরু করলেন নতুন বল হাতে। তার দ্বিতীয় ওভারে স্টাম্পড কাইরান পাওয়েল।

এমনিতেই ক্যারিবীয় দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ২০০তম টেস্ট উইকেটের দেখে পেয়েছেন তিনি। ওই উইকেট তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়, যেখানে তিনি সবার উপরে। কি সেই রেকর্ড?

২০০ উইকেট তাকে জায়গা করে দিল অভিজাত ক্লাবে, যে ক্লাবের সদস্য সাকিবকে নিয়ে হলো ১৪ জন। তবে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে সেখানে পৌঁছালেন সাকিব। পেছনে ফেললেন আজ শনিবারই ৬৩ বছর পূর্ণ করা বোথামকে।

ইনজুরি থেকে ফিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট পেয়েছিলেন সাকিব। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে ক্যারিবীয়দের সামনে ২০৪ রানের টার্গেট ফিয়েছে টাইগাররা। এবার শুরুতেই বল করতে আসেন সাকিব।

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পান সাকিব। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে ফের উইকেটের পতন ঘটিয়ে উইন্ডিজকে চাপে ফেলে দেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তার ওই জোড়া আঘাতের পর আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলও জোড়া আঘাত হানলে ১১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দ্রুততম সময়ে তিন হাজার টেস্ট রান আর ২০০ টেস্ট উইকেট দখলের রেকর্ড এখন সাকিবের দখলে। মাত্র ৫৪ টেস্টেই এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক ইংলিশ গ্রেট অলরাউন্ডার ইয়ান বোথামের দখলে। বোথামের এই কীর্তি গড়তে লেগেছিল ৫৫ টেস্ট। ভারতীয় গ্রেট কপিল দেবের লেগেছিল ৭৩ ম্যাচ, পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের ৭৫ আর কিউই গ্রেট রিচার্ড হ্যাডলির লেগেছিল ৮৩ ম্যাচ। আর সবমিলিয়ে ৩০০০ টেস্ট রান আর ২০০ টেস্ট উইকেটের দেখা পাওয়ার কীর্তিতে সাকিব নবম খেলোয়াড়।

বাংলাদেশের হয়ে ১০০ টেস্ট উইকেট আছে সাকিব ছাড়া আর কেবল মোহাম্মদ রফিকের। দেশের হয়ে সবার আগে ২০০ ছুঁলেন যিনি, প্রথম টেস্ট উইকেটের জন্য তার অপেক্ষা করতে হয়েছে চতুর্থ টেস্ট পর্যন্ত। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ওয়েলিংটন টেস্টে ক্রেইগ কামিংকে ফিরিয়ে শুরু করেন উইকেট শিকার অভিযান। প্রথম ৬ টেস্ট শেষেও কেবল উইকেট ছিল ৩টি।

তখনও পর্যন্ত একটু বোলিং আর একটু ব্যাটিং দিয়েই ছিলেন টেস্ট দলে। ২০০৮ সালেই অক্টোবরে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে সেই সময়ের কোচ জেমি সিডন্স হুট করেই ঘোষণা করলেন দলের সেরা স্পিনার সাকিব। তার বোলিং ভাগ্যও যেন বদলে গেল রাতারাতি। সেই ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে।

এরপর আর থামাথামি নেই। ১০ বছর আগে যে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বোলার হিসেবে তার নবযাত্রা শুরু হয়েছিল ৭ উইকেট নিয়ে, সেই মাঠেই এবার রচনা হলো নতুন অর্জনের গল্প।

সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেটও ছিল এই মাঠে। ভারতের ভিভিএস লক্ষনকে আউট করে ৫০ ছুঁয়েছিলেন ১৫তম টেস্টে। উইকেটের সেঞ্চুরি হয় ২৮তম টেস্টে, খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামিকে ফিরিয়ে।

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে সাকিব দেখা পান ১৫০ উইকেটের। ক্যারিয়ারে সেটি তার ৪৩তম টেস্ট, জো রুট ছিলেন দেড়শতম শিকার।

দেড়শ থেকে দুইশ আসতে লাগল মাত্র ১১ টেস্ট। ৫৪ টেস্টে ছুঁলেন দুইশ।

সাকিবের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে দুইশ উইকেট ছুঁয়েছেন টেস্ট ইতিহাসের ৪৫ জন বোলার। তবে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে তার চেয়ে দ্রুততম কেবল দুই জন। ৪৭ টেস্টে দুইশ ছুঁয়েছিলেন রঙ্গনা হেরাথ, ৫১ টেস্টে বিষেন সিং বেদি।

x

Check Also

বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন মির্জা ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী প্রতীক বরাদ্দের ডামাডোলের ...

Scroll Up