ভারতে জিএসকের হরলিকস কিনে নিল ইউনিলিভার

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : ভারতে জিএসকের হরলিকস ব্যবসা কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার। ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে ভারতের বাজারে গ্লাক্সোস্মিথ ক্লেইন হরলিকস ব্যবসা কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার।

বাংলাদেশী মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা।

গতকাল সোমবার দুই কোম্পানির মধ্যে ব্যবসা হাতবদলের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মাধ্যমে এই কোম্পানির মালিকানা বদল হয়েছে।

এই হাতবদলের মাধ্যমে জিএসকে হরলিকসের ভারত, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের ২০টি বাজারে ব্যবসার মালিকানা পেয়েছে ইউনিলিভার।

হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ফিন্যান্স বিভাগের প্রধান শ্রীনিবাস পাঠক সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসা হাতবদল হওয়ার ফলে হরলিকসের বিপণন ও ব্যবাসা দুই অঙ্ক (ডাবল ডিজিট) হারে প্রবৃদ্ধি হবে।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) ভারতীয় পুষ্টি ব্যবসা হরলিকস কিনতে দরপত্র জমা দিয়েছিল বিশ্বখ্যাত তিন কোম্পানি নেসলে, ইউনিলিভার এবং কোকা-কোলা।

ব্যবসাটির জন্য ৪০০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছিল জিএসকে।

মল্টজাত পুষ্টিকর পানীয় হরলিকস ১৮৭৩ সালে বাজারে আসে। সে সময় ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত জেমস ও উইলিয়াম হরলিক পানীয়টি তৈরি করতে শিকাগোয় একটি কোম্পানি স্থাপন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটিশ সেনারা পানীয়টি ভারতে নিয়ে আসে।

ব্রিটেনে ঘুমানোর সময়কার পানীয় হিসেবে বিক্রি হলেও ভারতে হরলিকসকে আরো বড় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে জিএসকে। তবে সুইস ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি নোভার্টিস কেনার পর হরলিকস ও বেশকিছু ছোট পণ্যের ব্যবসা পর্যালোচনা শুরু করে ব্রিটিশ কোম্পানিটি।

এই হাতবদলের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ২০টি বাজারে হরলিকসসহ জিএসকের কনজিউমার হেলথকেয়ারের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পূর্ণ স্বত্ত্বও ইউনিলিভার পেয়েছে।

বাংলাদেশে জিএসকের ব্যবসার ৭০ শতাংশ ছিল কনজিউমার হেলথকেয়ার ইউনিটের, বাকি ৩০ শতাংশ ফার্মাসিউটিক্যালসের। কিন্তু লাভের প্রায় পুরোটাই আসত কনজিউমার হেলথকেয়ারের পণ্য বিক্রি করে।

এ কারণে ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা চালিয়ে আসা এ কোম্পানি গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে তাদের ওষুধ উৎপাদন কারখানা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল বিজনেস ইউনিটের সব কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কারখানা চালিয়ে আসা এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বৃহস্পতিবার এক বৈঠকের পর তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল বিজনেস ইউনিটের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

ওষুধ খাতের কোম্পানি হিসেবে ১৯৭৬ সালের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড।

জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের মোট শেয়ারের ৮১.৯৮ শতাংশ ছিল পুঁজিবাজারে। বাকি ১৫.৯৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১.২৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ১.২১ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে ছিল।

মালিকানার হাতবদলে জিএসকে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি শেয়ারের মধ্যে ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার ইউনিলিভারের হাতে যাচ্ছে।

x

Check Also

বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন মির্জা ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী প্রতীক বরাদ্দের ডামাডোলের ...

Scroll Up