জিসিসি সম্মেলনে আঞ্চলিক সংকটের কালো মেঘ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আরব উপসাগরীয় নেতাদের সম্মেলনে আঞ্চলিক সংকটের কালো মেঘের ছায়া ভর করেছে। গতকাল রবিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) বার্ষিক সম্মেলন।

কাতারের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক অবরোধ, ইয়েমেন যুদ্ধ ও সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা, ইরানের তেল রাজনীতিই ছিল আলোচনার মূল ইস্যু।

কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দেড় বছরেরও বেশি সময়ের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তিক্ত এমন সম্পর্কের কারণে সম্মেলনে যোগ দেননি কাতারের আমীর তামিম বিন হামাদ আল থানি। খবর এএফপি ও আলজাজিরার।

এবার জিসিসি’র ৩৯তম সম্মেলন হয়েছে। ইরাক-ইরান যুদ্ধের পর ১৯৮১ সালের ২৬ মে আরব উপসাগরীয় এ বাণিজ্যিক জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রিয়াদভিত্তিক এ জোটের ছয় রাষ্ট্রের সবগুলোতে পরিবারতন্ত্র বিদ্যমান।

শুধু কুয়েত ও বাহরাইনে চালু রয়েছে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। গত বছরের জুনে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, বাহরাইন ও আরব আমিরাত।

ওমান ও কুয়েত এ সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করছে। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে কাতার। এতে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছে দোহা।

গত ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের আমীরকে আমন্ত্রণ জানান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। একেবারে শেষ সময়ে এসে শনিবার জানালেন, তিনি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আরব উপসাগরীয় সম্মেলনে থাকবেন না আমীর। কাতারের প্রতিমন্ত্রীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

কাতারের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দায় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমেদ বলেন, ‘সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সব ধরনের সেতু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে কাতার।’

জিসিসি মহাসচিব আবদেল লতিফ আল জায়ানি বলেন, এ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হবে।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ছয় রাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের তেল খাত শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হত্যার শিকার হয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক খাসোগি। এ ঘটনায় বিদেশি চাপে রয়েছেন যুবরাজ। সম্মেলনে খাসোগি খুনের ঘটনা ব্রিফিং করতে হবে রিয়াদকে।

খাসোগি হত্যায় সৌদি আরবকে ছাড় দেবে না যুক্তরাষ্ট্র-হ্যালি : জাতিসংঘের বিদায়ী মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়া উচিত নয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য এমন নয়। শনিবার মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন হ্যালি।

শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খাসোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নাকচ করে আসছেন। খাসোগি হত্যার জেরে সৌদি আরবের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জোরালো হয়ে উঠলেও তাতে সায় দেননি ট্রাম্প।

তিনি দাবি করেন, দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আরও অনেক উপায় রয়েছে। অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও মনে করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এ অবস্থানকে সমর্থন দিতে পারছেন না হ্যালি। তিনি বলেন, ‘সৌদি সরকারি কর্মকর্তারা সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে এ কাজ করেছে। আমরা তাদেরকে ছাড় দিতে পারি না।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়।’ হ্যালি আরও বলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডকে উপেক্ষা করতে পারি না। আমরা কখনো বলতে পারি না যে এটা ঠিক আছে। আমরা কখনো হিংস আচরণকে সমর্থন করতে পারি না।’

x

Check Also

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের ...

Scroll Up