১৮টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের পর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২০ প্রার্থীর নির্বাচন করার বিষয়টি আটকে গেছে। তাদের মধ্যে দু’জন (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত। অন্য ১৮ জন ২০ দলীয় জোট বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। এসব প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় ১৮টি আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এখন আর কোনো প্রার্থীতা নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ১০ প্রার্থীসহ মোট ১২ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তবে ১২ জনের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১১ জন আপিল বিভাগে আবেদন করে বিফল হয়েছেন; তাদের মধ্যে ৯ জন বিএনপির প্রার্থী। নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার হাইকোর্টের আদেশ প্রার্থিতা ফিরে পেলেও আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতে তা স্থগিত হয়ে গেছে।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রার্থী ও পক্ষগুলোর করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের অবকাশকালীন চেম্বারজজ আদালত বেশিরভাগ আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আবেদন কোনো রকমের স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে আদালতের আদেশে সোমবার পর্যন্ত মোট ২০ প্রার্থীর নির্বাচন করার বিষয়টি আটকে গেছে।

চেম্বারজজ আদালতের আদেশে যাদের ভোটের পথ বন্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপির ১০ প্রার্থী হলেন- ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২০ আসনে তমিজ উদ্দিন, চাঁদপুর-৪ আসনে আবদুল হান্নান, জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান, রাজশাহী-৬ আসন মো. আবু সাঈদ চাঁদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে মো. মোসলেম উদ্দিন, ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ, জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনে মিল্টন মোর্শেদ ও নীলফামারি-৪ আসনে আমজাদ হোসেন সরকার।

১০ জনের মধ্যে ৮ জনের ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ও একটি আসনের ভোটার পৃথক রিট করেন। হাইকোর্ট ৮ জনের মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণার ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির আদালতে পৃথক আবেদন করেন ৮ প্রার্থী, যার ওপর সোমবার শুনানি হয়।

সৈয়দপুর পৌর মেয়র পদে থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট রিট করে ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে ইসি, যার শুনানি নিয়ে আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

ময়মনসিংহ-৮ আসনে মাহমুদ হাসান সুমন ও রংপুর-১ আসন মো. আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে, পৃথক উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে রিট করেন সংশ্লিষ্ট আসনের অপর দুই প্রার্থী। হাইকোর্টের আদেশ আটকে যায় তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল বিভাগে আবেদন করেন তারা, যা চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে।

হাইকোর্টে করা বেশিরভাগ রিট আবেদনকারীরপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক এবং তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা বেশিরভাগ আবেদনকারী প্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালতের আদেশে ইতোপূর্বে আটকে যাওয়া বিএনপির অপর ৮ প্রার্থী হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বেগম আফরোজা খান, বগুড়া-৩ আসনে আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনে সরকার বাদল, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে তাহসিনা রুশদী লুনা, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফা ও রংপুর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানী।

x

Check Also

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের ...

Scroll Up