জাতীয় পার্টি আবারও বিরোধী দলে?

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েছে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি বলছে, ভোটের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী জাপারই প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

‘লাঙ্গল’ প্রতীকে জাপার ২২ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। গত রবিবার রাতের মধ্যে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ প্রায় সকল মহলে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যেই বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে— সেটি হলো একাদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল কারা হবে।

প্রধান বিরোধী দল হতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি-না এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণের মধ্যে। এ ব্যাপারে বর্তমান দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য কোনো দলের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন প্রাপ্তির বাধ্যবাধকতার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি এখনও নির্বাচনী এলাকায় (পীরগঞ্জে)। তারপরেও বিষয়টি যখন সামনে আসবে তখন সবকিছু নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখা হবে।’

তবে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন প্রাপ্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কার্যপ্রণালী বিধির ২ নম্বর বিধিতে এই ব্যাপারে বলা আছে, ‘বিরোধী দলীয় নেতা অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারের বিরোধিতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমতো দল বা অধিসংগের নেতা।’

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৭টি আসন। জাপা পেয়েছে ২২টি আসন। আর স্বতন্ত্র তিনজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। জাপা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হলেও দলটি নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ‘লাঙ্গল’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তাছাড়া বিরোধী দল সম্পর্কে কার্যপ্রণালী বিধিতে এটাও বলা আছে যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোনো গ্রুপ যদি প্রধান বিরোধী দল হতে চায় তাহলে কমপক্ষে ১০ জনের গ্রুপ হতে হবে।

এসব দিক এবং ভোটের ফলের হিসাব পর্যালোচনায় জাপা ছাড়া কারও প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বর্তমান দশম সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হলেও এবারও যদি জাপা বিরোধী দলের আসনে বসে তাহলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন এনিয়ে জাপার ভেতরে গ্রুপিং ও মতপার্থক্য রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও দলের নেতাদের কেউ চান— রওশনই আবার বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, কেউ চান এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দেখতে।

এ ব্যাপারে জাপার সদ্য সাবেক মহাসচিব ও দলের চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাপার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। যেহেতু এরশাদ সাহেব দলের চেয়ারম্যান এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য— সেই কারণে বিরোধী দলীয় নেতা নির্ধারণের বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো কারণে যদি তিনি (এরশাদ) বিরোধী দলীয় নেতা হতে না চান তাহলে সেইক্ষেত্রে রওশন এরশাদ কিংবা পার্টির সংসদীয় দল যাকে চাইবে তিনিই হবেন।’

আর জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আবারও নির্বাচিত এমপি ফখরুল ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ধারণা রওশন এরশাদই আবার বিরোধী দলীয় নেতা হবেন। কারণ দলের চেয়ারম্যানের শারীরিক অবস্থা তো ভালো নয়।’

এদিকে জাপার দায়িত্বশীল নেতারা জানান, বর্তমান সংসদের মতো জাপা এবারও বিরোধী দলে বসার পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও থাকতে চায়। এক্ষেত্রে জাপা গতবারের চেয়ে এবার আরও বেশি সংখ্যক মন্ত্রিত্ব দাবি করবে বলে জানা গেছে।

x

Check Also

নেদারল্যান্ডসে যাত্রীবাহী ট্রামে বন্দুক হামলা, নিহত ১

এমএনএ রিপোর্ট : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর এবার নেদারল্যান্ডসের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে বন্দুক ...

Scroll Up