বছরের প্রধম দিনে নতুন বইয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : নতুন বছরের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার সারাদেশে একযোগে ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস’ পালন করছে সরকার। এদিন প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। এ বছর চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে নতুন পাঠ্যবই।

বছরের প্রধম দিনে নতুন বই পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। তারা স্কুল ড্রেসের সঙ্গে মাথায় নানা রঙয়ের ক্যাপ পরে হাতে জরির ফিতা নিয়ে আকাশে উড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

গত ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসব উদ্বোধন করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ অনুকরণীয়। বিশ্বের কাছে আমরা এখন রোল মডেল। কেউ আমাদের এ অগ্রগতি থামাতে পারবে না। আমরা একসময় বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হব।

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন, একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী দিন। বিনামূল্যে এত সংখ্যক বই বিতরণের এমন উদাহরণ জগতে আর নেই। আমরাই এতে সফল হয়েছি। প্রতিবছর জানুয়ারির ১ তারিখে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেই। ২০১০ সালের পর একবারও এর ব্যত্যয় হয়নি। স্বাধীন দেশ বলে এটা সম্ভব হয়েছে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরব স্বাধীন বাংলাদেশ। আর এর মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, বিরাট সম্ভাবনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। আর নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে নেতৃত্বে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেবে তরুণ প্রজন্ম। এর জন্য আমাদের শিক্ষার গুণগত মানকে বিশ্বমানে পৌঁছাতে হবে। আজকের এ তরুণ প্রজন্মই এ দেশকে বিশ্ব দরবারে উঁচু করে তুলে ধরবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্মের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেব। আমাদের এ প্রজন্ম কোনো অংশেই বিশ্বের কোনো অংশ থেকে পিছিয়ে নেই। আমাদের সৌভাগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর একটা যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে পেরেছি। আমরা কাউকে পেছনে ফেলে যাব না, সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। সব ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। আজকে ছেলে-মেয়ে সমতা আনতে পেরেছি। মাধ্যমিকে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে গেছে।

আমরা বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে চাই। একই সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন খাঁটি মানুষ তৈরি করতে চাই। আমররা সমস্ত শ্রম মেধা দিয়ে আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলব।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলাদাভাবে ‘বই উৎসব দিবস’ পালন করেছে। সকাল ৯টায় এই অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিন দেশব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ি, দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল, এসএসসি ভোকেশনাল, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, আজ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ পাঠ্যবই। আমরা প্রয়োজনীয় সব বই মুদ্রণ শেষে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিয়েছি। আশা করছি, সব শিক্ষার্থীর মাঝে সুষ্ঠুভাবে এই বই বিতরণ সম্পন্ন হবে।

শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে উৎসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধবতন কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন রুমিন ফারহানা

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ...

Scroll Up