বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের আকস্মিক পদত্যাগ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে তিন বছর আগেই আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। তার এ ঘোষণায় আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের

কিন্তু উন্নয়নে অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যেই গতকাল সোমবার বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে জিম ইয়ং কিমের পদত্যাগের এই ঘোষণা আসে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘সংরক্ষণ নীতি’ বা ‘একলা চলো নীতি’ অনুসৃত হচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাংকের প্রধান কোনোভাবেই ট্রাম্পের এই সংরক্ষণবাদের সঙ্গে সহমতে যেতে পারছিলেন না।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দায়িত্ব না নেওয়া’ এবং ‘কাউকে পরোয়া না করা’র অবস্থান ইয়ং কিমকে মর্মাহত করে। এক্ষেত্রে তিনি যে নীতি নিয়েছেন তা অনেকটা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রই নিয়োগ দিয়ে থাকে। সেজন্য হয়তো ‘কিছু করার নেই’ ধরেই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বাহাস এড়িয়ে গেছেন কোরিয়ান এই অর্থনীতিবিদ ।

বিবিসির এক খবরে বলা হয়, জিম ইয়ং কিমের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। আপাতত বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

৫৯ বছর বয়সী জিম ইয়ং কিম বিশ্ব ব্যাংকের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন গত ছয় বছর ধরে। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়ায় ২০২২ সাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

তবে কি কারণে হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে কিছু বলেননি কিম।

রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় বিশ্ব ব্যাংকের দায়িত্ব পাওয়া জিম পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। তার সময়ে কয়লা বিদ্যুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নও অনেক কমিয়ে আনা হয়েছিল। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

জিম এক ইমেইলে বিশ্ব ব্যাংকে তার সহকর্মীদের জানিয়েছেন, দায়িত্ব ছাড়ার পর একটি বেসরকারি ফার্মে তিনি যোগ দেবেন, যারা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করে।

এক বিবৃতিতে জিম বলেন, বিশ্ব থেকে চরম দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তার জন্য ‘অনেক বড় সম্মানের’ বিষয়।

বিশ্ব থেকে মহামারি, দুর্ভিক্ষ, শরণার্থী সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করা বিশ্ব ব্যাংকের জন্য ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন জিম ইয়ং কিম।

x

Check Also

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। ...

Scroll Up