সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো সাভারে, আশুলিয়া এবং গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। কয়েকদিন ধরে চলা এসব এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানার সামনে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকরা জানান, সকালে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সাভারের উলাইল ও আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ এ বিক্ষোভে বাধা দেয়।

এতে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়ায় সকাল থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক সানা শামীনুর রহমান জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে বাইপাইল আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের এশিয়া এবং সাভারের হেমায়েতপুরের নরসিংহপুর এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার ও আশুলিয়ায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানাগুলোর সামনে পুলিশের জলকামানসহ সাঁজোয়া যান রয়েছে।

এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে আশুলিয়ায় চারাবাগ এলাকার মেট্রো ও নিউ এশিয়া এবং সাভারের স্ট্যান্ডার্ট গ্রুপের সামস স্টাইলওয়্যার লিমিটেডসহ তিনটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিপক্ষ।

এদিকে গাজীপুরে আজও বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে মহানগরীর বোর্ডবাজার, সাইনবোর্ড, ভোগড়া, ইসলামপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ নিয়ে মহাসড়কে নামেন। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে।

পোশাক কারখানাগুলোর কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষে উলাইল এলাকার আনলিমা টেক্সটাইলের সুমন নামে এক শ্রমিক নিহত হন। এর জের ধরে আজ বুধবারও ওই পোশাক কারখানাটি একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অনান্য খাতের শ্রমিকদের মজুরির বিবেচনায় পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি ছিল বিভিন্ন বাম শ্রমিক সংগঠনের। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিক্ষোভ, মানববন্ধনের মত কর্মসূচি পালন করে আসছিল সংগঠনগুলো।

x

Check Also

মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলার

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ ...

Scroll Up