ট্রাম্প আমাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন : মাদুরো

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে বলেছেন, তাকে হত্যা করতে কলম্বিয়া সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ বুধবার রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা রিয়া’কে দেওয়ার এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো এ অভিযোগ করেন।

প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি কলম্বিয়া সরকার এবং দেশটির মাফিয়াদেরকে আমাকে হত্যা করতে বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, এরপরও আমি ট্রাম্প এবং বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার পথ খোলা রেখেছি। আমি এখনো গুইদোকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেইনি।

এদিকে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাশে আছেন জানিয়ে মাদুরো বলেন, আমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা আছে, আমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকব।

তিনি বলেন, তবে কোনোদিন আমার কিছু হলে এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকুয়ে দায়ী থাকবেন।

অন্যদিকে গুইদোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক অ্যাকউন্ট জব্দের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিমকোর্ট। সরকারি কৌঁসুলিরা গুইদোর বিষয়ে তদন্ত করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। খবর রয়টার্স

আজ বুধবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই এমন নিষেধাজ্ঞা এল দেশটির বিরোধীদলীয় এ নেতার ওপর।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে পিডিভিএসএ উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার জানিয়েছে।

ছয় বছর ধরে শাসন করা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনে গুইদো চ্যালেঞ্জ জানায়। আর এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হলো তেলের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা। এ পদক্ষেপের পর বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত সপ্তাহে নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করার পর প্রথমবারের মতো গুইদোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল ভেনেজুয়েলা সরকার।

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে হস্তক্ষেপ করতে সাহায্য করেছেন গুইদো, এ অভিযোগে গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দিতে সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক সাব।

একজন আইনপ্রণেতা ও জাতীয় পরিষদের প্রধান হিসেবে বিশেষ ছাড় থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের অনুমতি ছাড়া গুইদোর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করা যায় না।

আবেদন অনুমোদন করে সুপ্রিমকোর্ট গুইদোর বিরুদ্ধে প্রাথমকি তদন্তের অনুমতি দেয়।

এর পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়সী বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দেরও নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্ট।

এর আগে ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল।

সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় গুইদোকে স্বীকৃতি দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় নতুন নেতার স্বীকৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইসরাইল।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোবিরোধী এক সমাবেশে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন বিরোধী নেতা গুইদো।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোও গুইদোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভেনেজুয়েলায় নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া, চীন, মেক্সিকো ও তুরস্ক মাদুরো সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।

মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি থেকে তেল ক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে লাতিন আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তেল কেনা বন্ধ করে দিলে দেশটির অর্থনীতি খাদের কিনারে পৌঁছে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে তেল বিক্রি বন্ধ হলে মিত্র দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া বিশাল অংকের ঋণ পরিশোধেও ব্যর্থ হবে ভেনেজুয়েলা। যদিও মাদুরো রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ যথা সময়ে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাদুরো ও তার পূর্বসূরি প্রয়াত হুগো শ্যাভেজ ছিলেন ইসরাইলের কঠোর সমালোচক। ২০০৯ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন শ্যাভেজ।

ছয় বছর আগে হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আসা ৫৬ বছরের মাদুরোকে আগে কখনো এতবড় সংকটের মুখে পড়তে হয়নি।

গত বছরের ভোটে মাদুরো জয়লাভ করলেও কারচুপির অভিযোগে দেশটির বিরোধীদল ওই ভোট বয়কট করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বান উপেক্ষা করে গত মাসে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ নেন মাদুরো।

x

Check Also

ভেনিজুয়েলায় সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যেকোনো সশস্ত্র সংঘাত রুখে দেয়ার সক্ষমতা প্রমাণে ...

Scroll Up