বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সা’দপন্থিদের ইজতেমা শুরু

এমএনএ রিপোর্ট : বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আজ রবিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সা’দপন্থিদের ইজতেমার পর্ব। এই পর্বের আখেরি মোনাজাত আগামীকাল সোমবার। আর এর মাধ্যমে চার দিনের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার পরিসমাপ্তি ঘটবে।

সা’দ পন্থি তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি মো. আনিছুজ্জামন জানান, রবিবার বাদ ফজর ভারতের হযরত মাওলানা হাফেজ ইকবালের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ইজতেমার কার্যক্রম। বয়ান বাংলায় তরজমা করছেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ মুনসুর।

সকাল ৭টার দিকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে হালকা বাতাসও। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ইজতেমায় যোগ দেয়া মুসল্লিরা। বৃষ্টির কারণে ইজতেমা ময়দানের অভ্যন্তরে যাতায়াতের রাস্তা ঘাট গুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। এতে মুসল্লিদের চালাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখার পর্যন্ত বেলা ১১টা দিকে ইজতেমাস্থলে আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক।

এদিকে আজ রবিবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাওলানা সা’দ অনুসারী মুসল্লিরা ইজতেমায় মায়দানে আসতে শুরু করেছেন। প্রথম পক্ষের ইজতেমা মতোই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস-ট্রাক, কার-পিক-আপসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ইজতেমাস্থলে আসছেন তাবলিগ জামাতের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তারা ইজতেমা ময়দানের নির্ধরিত স্থানে অবস্থান নিচ্ছেন। আগামীকাল সোমবার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দানে আসা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের শতাধিক বিদেশি মেহমানও এ পর্বে ইজতেমায় অংশ গ্রহণ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানে এবছর ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাবলিগ জামাতের চার দিনব্যাপী ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়েরেরপন্থিরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি জোবায়েরপন্থিদের পরিচালনায় শেষ হয় আখেরি মোনাজাত।

আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার সা’দপন্থিদের পরিচালনায় ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সোমবার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের এবারের ইজতেমার কার্যক্রম।

এর আগে গতকাল শনিবার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্ল­াহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশেষ রহমত কামনা করা হয়। এ সময় ‘আমিন, আল্ল­াহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে মহামহিম ও দয়াময় মহান আল্ল­াহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি­ আকুতি জানান। আরবি ও বাংলা ভাষায় মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের। সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে তা ১১টা ৬ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মোনাজাতকালে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। ২৪ মিনিট স্থায়ী তাত্পর্যপূর্ণ মোনাজাতে মাওলানা জোবায়ের প্রথম ১৩ মিনিট মূলত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ১১ মিনিট দোয়া করেন বাংলা ভাষায়। বাংলা ভাষায় মোনাজাত হওয়ায় মোনাজাতের সময় অনেক মুসল্লি আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এই পর্বের আখেরি মোনাজাতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লি শরিক হয়েছেন বলে ইজতেমার আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ইজতেমা ময়দান ছাড়াও বহু মুসল্লি ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিমানবন্দর গোল চত্বর কিংবা উত্তরা থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। এদিন রাজধানী ঢাকা ছিল অনেকটা ফাঁকা। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার সব অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা কার্যতঃ ছিল বন্ধ।

গতকাল শনিবার আখেরি মোনাজাত শেষে জোবায়ের অনুসারিরা রাত ১২টার মধ্যে ইজতেমা মাঠ ত্যাগ করেন এবং মাঠ বুঝিয়ে দেন প্রশাসনের কাছে। পরে মাওলানা সা’দ অনুসারীদের কাছে ময়দান বুঝিয়ে দেয়া হয়।

x

Check Also

সিরাজগঞ্জে হানিফ পরিবহনের ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে হানিফ পরিবহনের ...

Scroll Up