পাকিস্তানকে ২০ বিলিয়ন ডলার দিলেন সৌদি যুবরাজ

এমএনএ রিপোর্ট : দুই দিনের সফরের প্রথম দিনে পাকিস্তানকে ২০ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গতকাল রবিবার রাতে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাটিতে পৌঁছান সালমান।

পাকিস্তান সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে ১ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলান যুবরাজ।

ওই দিনই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে সৌদি যুবরাজ তার দক্ষিণ এশিয়া ও চীন সফর শুরু করেন।

পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখতেই তাঁকে স্বাগত জানান প্রধামন্ত্রী ইমরান খান। বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ায় সৌদির প্রশংসা করেছেন ইমরান। তিনি বলেন, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব নিজেদের সম্পর্ককে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেখানে আগে কখনও পৌঁছন যায়নি।

যুবরাজ মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ২০ বিলিয়ন ডলার অঙ্কটির মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি অথনৈতিক সম্পর্কের শুরু প্রতিফলিত হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক মিত্রতা আরও গভীর হবে।

“প্রথম ধাপের জন্য এই বিনিয়োগ বড়, আর নিশ্চিতভাবেই এটি প্রতি মাসে ও প্রতি বছরে বাড়তে থাকবে এবং এতে উভয় দেশই লাভবান হবে,” বলেছেন তিনি।

“আমরা পাকিস্তানের ভাইয়ের মতো, বন্ধুর মতো। ভাল সময় থেকে শুরু করে কঠিন সময়েও আমরা একসঙ্গে চলেছি এবং চলবো।”

বর্তমানে ব্যাপক অর্থ সংকটে ভুগছে পাকিস্তান। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে ধর্না দিয়েছেন।

সৌদির সঙ্গে এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সমঝোতা চুক্তিগুলোর অধিকাংশই জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে ঘিরে। এর মধ্যে পাকিস্তানের বন্দর নগরী গওয়াদরে একটি তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স প্রকল্পের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়াও কয়েকটি জ্বালানি, পেট্রো কেমিক্যাল ও খনি খাতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সৌদি যুবরাজ সালমান বলেন, এটি দুই দেশের জন্য বড় অধ্যায়। এবং নিশ্চিতভাবে প্রতি মাস এবং প্রতি বছর বৃদ্ধি পাবে এবং এতে উভয় দেশ লাভবান হবে।

গতকাল রবিবার সৌদি যুবরাজকে বহনকারী উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর দেশটির বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ওই উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে।

পাকিস্তানের সেনাশহর রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক বিমানবন্দরে যুবরাজকে বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। বিমানবন্দরে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দিয়ে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান ও সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া।

এখান থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদকে রাজধানী ইসলামাবাদে নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী ইমরান।

সালমানের দুই দিনের সফর ঘিরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি শহরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের মূল সড়কগুলোতে যান চলাচল সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে হাজারখানেক পুলিশ চৌকি।

এছাড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে শহরের ওপর দিয়ে বিমান চলাচল। এছাড়া শহরটির বড় অংশ জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা। সৌদি যুবরাজ সফর উপলক্ষে সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

এর কিছুক্ষণ পর মোহাম্মদের পাশে উপবিষ্ট ইমরান বলেন, “প্রয়োজনের সময় সৌদি আরব সমসময়ই বন্ধুর মতো পাশে থেকেছে, তাই এই বন্ধুত্বকে আমরা এত মূল্য দেই। আমাদের দুঃসময়ে যেভাবে আপনারা আমাদের সাহায্য করলেন তার জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ দিচ্ছি।”

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি সহায়তাই সংকটে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ‘বেইল আউট’ নিয়ে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা চলছে। এর মধ্যে রিয়াদের ৬০০ কোটি ডলার ঋণ ইসলামাবাদকে খানিকটা স্বস্তি দিয়েছে বলে খবর।

পাকিস্তান সফর শেষে ভারতে যাবেন সালমান। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা থাকলেও শনিবার কোনও কারণ না দেখিয়েই তা বাতিল করা হয়। ভারত থেকে মোহাম্মদ বিন সালমান দুই দিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি।

x

Check Also

বিশ্বকাপের সেরা একাদশে সাকিব-মুশফিক

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : চলমান দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে খেলোয়াড়দের প্রায় মাসখানেকের ব্যাট-বলের দুর্দান্ত লড়াই বিমুগ্ধ করেছে ...

Scroll Up