এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

এমএনএ রিপোর্ট : দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থী। গতবারের চেয়ে এবার ৪০ হাজার ৪৮ জন পরীক্ষার্থী বেড়েছে।

পরীক্ষা শুরুর আগে রাজধানীর বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে কোচিং সেন্টার বন্ধসহ ২২ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নফাঁসের গুজবে কান না দিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এইচএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র (ডিআইবিএস) এবং আলিমে কোরআন মাজিদ পরীক্ষা হচ্ছে।

এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস), বাংলা-২ (পুরনো সিলেবাস); বিকেলে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস), বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরনো সিলেবাস) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সে সকালে বাংলা-২, বিকেলে বাংলা-১ (সৃজনশীল) পরীক্ষা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবার এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন এবং ডিআইবিএসে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ ছাত্র এবং ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯ জন ছাত্রী। দেশের বাইরে এবার বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ২৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

আগামী ১১ মে পর্যন্ত চলবে এইচএসসির তত্ত্বীয় লিখিত পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে ১২ থেকে ২১ মে পর্যন্ত।

এবার দুই হাজার ৫৭৯টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির এই চূড়ান্ত পরীক্ষা দেবে। গতবারের চেয়ে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১১৮টি, কেন্দ্র বেড়েছে ৩৮টি। ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ২৭৫ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে, এর মধ্যে ১২৭ জন ছাত্র, ১৪৮ জন ছাত্রী।

এবার এইচএসসি ও সমমানের মোট ৫১টি বিষয়ে ১০১টি পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সিলেবাসে পত্রের সংখ্যা ১৫১টি। সারাদেশে মোট দুই হাজার ৫৮০টি কেন্দ্রের প্রায় ৪০ হাজার কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ শিক্ষক পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। পরীক্ষা নিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মোট তিন হাজার ৯৩২ ধরনের প্রশ্ন ছাপা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হয়েছে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী এরপর কেন্দ্রে এলে রেজিস্ট্রারে নাম, ক্রমিক নম্বর ও বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিলম্বে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্র সচিব সংশ্নিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করবেন।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। ছবি তোলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়- এ রকম কোনো মোবাইল ফোন (স্মার্ট ফোন) কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ব্যবহার করতে পারবেন না।

ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-শিক্ষক-কর্মচারীরাও কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রশ্নপত্র বহনের কাজে কালো কাচের মাইক্রোবাস বা এ ধরনের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে তার কোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রে ২০০ গজের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলমসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য দূরত্ব অনুযায়ী বেশি সময় আগে প্রশ্ন বিতরণ না করে প্রয়োজনীয় সময় নির্ধারণ করে প্রশ্নপত্র বিতরণ করতে হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রের অভ্যন্তরে একটি ফটোকপি মেশিন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

যদি কোনো মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার একই অঙ্কের টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে কাছের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করতে হবে। অনিবার্য কারণে পরীক্ষা শুরু করতে বিলম্ব হলে প্রশ্নে উল্লিখিত নির্ধারিত সময় শিক্ষার্থীদের দিতে বলা হয়েছে।

ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রশ্নপত্র বহনের কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা ওই রকম কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই, এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতি লেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে।

x

Check Also

ভোজন রসিকদের পছন্দ ইলিশ খিচুড়ি

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : ইলিশ খিচুড়ি কার না পছন্দ। বিশেষ করে ভোজন রসিকদের কাছে পছন্দের ...

Scroll Up