চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা ছাত্র ধর্মঘট চলাকালে আজ রবিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের একাংশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, ফাঁকা গুলি ও বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ছাত্রলীগের ছোড়া ইট-পাটকেলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ডিবি পুলিশের গাড়ি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আবাসিক হলের সামনে কাঠের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও ছোড়ে তারা।

এর আগে সকাল ৭টা থেকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের ৬ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৪ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে প্রধান ফটক বন্ধ করে রাখে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ধর্মঘটের শুরুতেই শাটল ট্রেন আটকে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে শাটল ট্রেনের কয়েকটি বগির হোস পাইপ কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় তারা প্রধান ফটক আটকে দিয়ে অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকা চার ছাত্রলীগ কর্মীকে মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা জিরো পয়েন্টে আসেন। তারা দফায় দফায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করতে অনুরোধ করেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে যেতে বলেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত না হয়ে কর্মীরা তাদের অবস্থানে অটল থাকে। এ সময় তারা উপাচার্যকে তাদের এখানে আসতে স্লোগান দিতে থাকেন।

বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জিরো পয়েন্টের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশের জলকামান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দোলা রেজা হ্যান্ডমাইকে ছাত্রলীগ কর্মীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন, মামলা ও মুক্তির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তাতেও রাজি হয়নি ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পুলিশের জলকামানের গাড়ি ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ফটক লাগিয়ে পুলিশকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ। ছত্রভঙ্গ হয়ে যান ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় পুলিশ জিরো পয়েন্টে এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা কাটা পাহাড়ের রাস্তায় ও শাহ জালাল হলের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষক বাসের চাকা পানচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হুইস পাইপ কেটে দেয় অবরোধকারীরা। এ ছাড়াও সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাখে তারা। পরে পুলিশ এসে ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেতরে সব দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দোলা রেজা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটকের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের অবরোধে সকাল থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, অস্ত্র মামলায় আটক ছাত্রলীগ কর্মীদের মুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ সহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

চবি ছাত্রলীগের ৪ দফা দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে হবে; হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীরকে পদত্যাগ করতে হবে; গত ৩ এপ্রিল অস্ত্র মামলায় আটক চবি ছাত্রলীগের ৬ কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে এবং ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

x

Check Also

আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নতুন সূর্যালোকে আজ ...

Scroll Up