হেরেম সুন্দরীদের জবানিতে ব্রুনেই প্রাসাদে বেলেল্লাপনা

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ব্রুনেই প্রাসাদে বেলেল্লাপনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন হেরেম সুন্দরী জিলিয়ান লরেন নামক একজন মার্কিন নারী। লরেন জানিয়েছেন, ব্রুনেইর রাজপ্রাসাদে প্রিন্স জেফরির হেরেমের ৪০ জন সুন্দরী নারীর একজন ছিলেন তিনি।

বেপরোয়া জীবনযাপন আর অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একজন গডফাদার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন ব্রুনেই সুলতান। বহু বছর ধরে বিশ্বের একজন শীর্ষ সম্পদশালী ব্যক্তি তিনি। নিজের অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছিলেন এই শাসক।

সম্প্রতি সমকামিতা নিয়ে কঠিন আইন চালু করেছে দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনেই। এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া চলছে বিশ্বব্যাপী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও সরব হয়েছে ব্রুনেই প্রসঙ্গে। একের পর এক উঠে আসছে সেদেশের সুলতান ও তাঁর পরিবার নিয়ে নানা কীর্তি কাহিনি। এতে স্থান পেয়েছে অন্তঃপুরের চিত্রও।

জিলিয়ান লরেন একজন মার্কিন নারী। ‘সাম গার্লস: মাই লাইফ ইন আ হেরেম’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। বইটিতে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন ব্রুনেই সুলতান ও প্রিন্সের বেলেল্লাপনার।

লরেন অভিযোগ করেছেন, প্রিন্স জেফরির হেরেমে ছিল ৪০ জন সুন্দরী নারী। তাদের একজন হিসেবে নিয়োগ পান তিনিও। সেটি ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিকের কথা। নিয়োগের আগে তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কের অষ্টাদশী এক নবাগত অভিনেত্রী।

লরেন তাঁর বইতে লিখেছেন, হেরেমে তাঁর কাটে প্রায় ১৮ মাস। এক বছরের জন্য প্রিন্স জেফরির ‘দ্বিতীয় প্রিয়’ উপপত্নী হিসেবে স্থান মেলে তাঁর।

প্রিন্স জেফরির কথা উল্লেখ করে ২০১১ সালে সিএনএনকে লরেন বলেন, ‘ওই সময় বিষয়টি আমার কাছে আকর্ষণীয় ছিল; প্রিন্সের আস্থা, তাঁর কারিশমা, বেহিসেবি অবস্থা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল।’

সুলতান ও প্রিন্সকে নিয়ে ২০১৫ সালে একটি ডকুমেন্টারি নির্মিত হয়। ‘দ্য প্লেবয় সুলতান’ শিরোনামে ৬০ মিনিটের ওই ডকুমেন্টারিতে লরেন বলেন, প্রিন্স জেফরির সঙ্গে শত শত বার যৌনকর্মে মিলিত হয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও সুলতান তাঁকে তাঁর সঙ্গে যৌনকর্মে মিলিত হতে বাধ্য করেছিলেন।

বইটি ব্রুনেই সরকার সেদেশে নিষিদ্ধ করেছিল।

২০১৪ সালে লরেন সিএনএন-কে বলেন, ‘আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী, সুলতান মদ্যপান করতেন, ব্যভিচার করতেন।’

লরেন বলেন, ২০১৩ সালে ব্রুনেই সরকার সেদেশে শরিয়া আইন চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। ওই ঘোষণা শুনে আমার মনে হয়েছে অন্তঃপুরের কিছু কথা বলা উচিত। তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো নির্ধারিত, যাঁরা ক্ষমতায় থাকবেন তাঁদের জন্য এক নিয়ম, আর যাঁরা ক্ষমতার বাইরে থাকবেন তাঁদের জন্য আরেক নিয়ম। কেননা, যাঁরা ক্ষমতার বাইরে থাকেন তাঁদের অর্থ নেই, বিত্ত নেই, ক্ষমতা নেই।’

এইসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সিএনএন’-এর পক্ষ থেকে মন্তব্য অনুরোধ করা হলে ব্রুনেই সরকার এক ই-মেইলে জবাব দেয়, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছি।’

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন, সাবেক মিস ইউএসএ শ্যানন মার্কেটিক। ১৯৯৮ সালে সুলতান ও প্রিন্স জেফরির বিরুদ্ধে তিনি মামলার চেষ্টা করেন মার্কিন আদালতে। তাঁর অভিযোগ ছিল, অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু, সুলতানের প্রাসাদে ৩২ দিনের ভার্চুয়াল কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে।

আদালতে মার্কেটিক বলেন, ৩০ থেকে ১০০ নারীকে সবসময় সুলতানের প্রাসাদে উপস্থিত থাকতে হতো। তাঁদের অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কেবল যৌনকাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য। আর মার্কেটিকসহ কয়েকজন মনে করতেন, দিনে প্রায় তিন হাজার ডলার বেতনে বৈধভাবে তাঁদেরকে আনা হয়।

আদালতে মার্কেটিক যে তথ্য-উপাত্ত দাখিল করেন তাতে দেখা যায়, রাতে প্রাসাদে ডিস্কো পার্টির আয়োজন করা হতো। তাতে অতিথি হিসেবে থাকতেন সুলতান, প্রিন্স জেফরি আর তাঁদের পুরুষ বন্ধুরা। সেখানে তাঁরা শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে নারীদের বেছে নিতেন।

যদিও ওই সময় ব্রুনেই রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

সূত্র : সিএনএন

x

Check Also

আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নতুন সূর্যালোকে আজ ...

Scroll Up