সুবর্ণচরের সেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

এমএনএ রিপোর্ট : নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহে পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহদাত হোসেন স্বপনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল (রবিবার) প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সুলতান মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নম্বর-১৯/২৮) বরাখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। বরখাস্তের চিঠি নোয়াখালী জেলা ও সুবর্ণচর শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মো. সুলতান মিয়া।

তিনি বলেন, উত্তর চরক্লার্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (প্রথম-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) প্রধান শিক্ষক শাহদাত হোসেন স্বপনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ এসেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বরখাস্তের চিঠিটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

সুবর্ণচর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ফলে স্কুলে পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হয়। আমরা সরেজমিন স্কুলে গিয়ে সবার সঙ্গে বৈঠক করে সেখানে একজন সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছি। স্কুলে প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত আলমারির তালা ভেঙ্গে চাবি নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন স্কুলের কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছে।

উল্লেখ্য, সুবর্ণচরের উত্তর চরক্লার্ক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহদাত হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে গত ২৩ মার্চ ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ওই ছাত্রী উত্তর চরক্লার্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। শিক্ষক আবু শাহাদাত হোসেন স্বপন বিদ্যালয়ের পাশের একটি কক্ষে থাকেন। বিভিন্ন সময় তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দিয়ে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজ করাতেন। ৬ মার্চ সকালে জরুরি কাজ আছে বলে মেয়েটিকে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি তার হাত থেকে ছুটে বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকে সে বাড়িতে চুপচাপ থাকত। বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বললে কান্নাকাটি করত। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে পরিবারের লোকজনকে ঘটনা খুলে বলে। বিদ্যালয়ের আরও আট ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে।

মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার হননি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সব আলমারির চাবি নিয়ে যাওয়ায় এবং তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এ বিষয়ে জাতীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইন ভার্সনে ‘ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের স্কুলে অচলাবস্থা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তৎপর হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

x

Check Also

আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নতুন সূর্যালোকে আজ ...

Scroll Up