সুদানে অব্যাহত বিক্ষোভ, সেনাপ্রধানের পদত্যাগ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সুদানে তিন দশক ধরে দেশ শাসন করা ওমর আল-বশিরকে উৎখাতের একদিন পরই বিক্ষোভকারীদের অব্যাহত আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। এ ঘটনার জেরে পদত্যাগে বাধ্য হলেন সুদানের সামরিক পরিষদের প্রধান আওয়াদ ইবনে অউফ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় গতকাল শুক্রবার এ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তার সরে যাওয়ার কথা জানান।

উত্তরসুরী হিসেবে তিনি লেফটেনেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেলরহমান বুরহানের নামও ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আজ শনিবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য দিয়েছে দেশটির পুলিশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের মুখপাত্র হাসেম আলী বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে।

দারিদ্র্যপীড়িত সুদানে বিগত তিনমাস ধরেই রুটি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে দেশটির রাষ্ট্রপতি বশির আল-ওমরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের হটাতে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের কারণে উল্টো এই বিক্ষোভ তার পতনের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

এসব ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট বশিরের পদত্যাগ ঘোষণা করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে আনন্দে মেতে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সে আনন্দ ছিল কিছু মুহূর্তের মাত্র। কারণ বশিরের পদত্যাগের পর ক্ষমতা নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী।

সেনাবাহিনীকে বশিরেরই অংশ হিসেবে দাবি করে ফের বিক্ষোভ করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এরপর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে সামরিক বাহিনী। তবে জরুরি অবস্থার তোয়াক্কা না করে নিজেদের বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে দেশটির জনগণ।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী খার্তুমে চলমান এ বিক্ষোভে দেশটির কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের শেষদিকে অভ্যুত্থানে শেষ হয় বশিরের ৩০ বছরের শাসনামল।

নতুন সামরিক পরিষদের জেনারেলরা বশিরের ‘খুবই ঘনিষ্ঠ’ দাবি করে বিক্ষোভকারীরা একে আগের শাসনামলের ধারাবাহিকতা হিসেবেই অভিহিত করে এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।

পদত্যাগ করা সেনাপ্রধান ইবনে অউফ গত দশকে দারফুরের সংঘাতের সময় সামরিক গোয়েন্দাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৭ সালে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।

তার পদত্যাগের খবরে খার্তুমের রাস্তায় থাকা আন্দোলনকারীরা উল্লসিত হয়ে ‘ফের পতন’ স্লোগান দিতে থাকে।

বশিরবিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া সুদানের প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন অউফের পদত্যাগকে ‘আন্দোলনকারীদের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বেসামরিক নেতৃত্বের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরে ফেরা হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।

সামরিক পরিষদ বলেছিল, দুই বছর দেশ শাসনের পর তারা নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। পরিষদের নতুন নেতা ফাত্তাহ আবদেল রহমান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসারও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

অউফের পদত্যাগের আগে গতকাল শুক্রবার সামরিক পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের অভিপ্রায়ে শাসনভার তুলে নেয়নি।

“সুদানের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আন্দোলনকারীরাই ঠিক করবেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না,” বলেছিলেন তিনি।

অভ্যুত্থানের পরপরই সুদানজুড়ে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, স্থগিত হয়েছিল সংবিধান।

বশির ‘গ্রেপ্তার’ হলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা মেনে তাকে অন্য কোথাও বহিঃসমর্পণ করা হবে না বলেও জানিয়েছিল সামরিক পরিষদ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থাকাকালে বশির আল-ওমর ‘অভ্যুত্থান’ ঘটিয়ে তৎকালীন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সাদিক আল-মাহদীকে উৎখাত করেন। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেন তিনি। কয়েকবছর ধরে তার বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ চেষ্টা হয়েছিলো। কিন্তু সেসব উতরে ৩০ বছর ধরে দারিদ্র্যপীড়িত দেশটির ক্ষমতায় আসীন ছিলেন তিনি।

x

Check Also

আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নতুন সূর্যালোকে আজ ...

Scroll Up