বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে নতুন বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪ মিনিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের অপরপ্রান্তে রাজশাহী রেলস্টেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

রেলকর্মীরা রাজশাহী স্টেশনে ফুল ও বিভিন্ন রঙের পাতলা কাপড় দিয়ে ট্রেনটি সাজান। গত মঙ্গলবার রাতে বহুল প্রত্যাশিত বনলতা এক্সপ্রেস ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীতে নেয়া হয়।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া থেকে ট্রেনের ব্রডগেজ কোচগুলো আনা হয়েছে।

অত্যাধুনিক এ ট্রেনে যুক্ত হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। এই প্রথম দেশের আন্তঃনগর কোনো ট্রেনে যুক্ত হয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়ো-টয়লেট। এখন থেকে মলমূত্র আর রেললাইনের ওপরে পড়বে না। স্টেশনে দাঁড়ানো অবস্থায় টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন যাত্রীরা।

প্রথমবারের মতো ট্রেনটিতে যুক্ত হয়েছে রিক্লেনার চেয়ার। যেখানে পা এবং হেলান দেয়ার আরামদায়ক সুবিধা থাকছে। এসি বাথের কেবিনে বেডরেস্ট সুবিধা তো থাকছেই। যেখানে রাতে বিছিয়ে দিলেই ছোট খাটের মতো হয়ে যাবে। আর কেবিনে ওপরের সিটে ওঠার জন্য স্টিলের মইয়ের বাদলে থাকছে সিঁড়ি।

ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক ১২টি বগি সংযুক্ত হয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’। এর মধ্যে শোভন চেয়ার সাতটি, এসি দুটি, একটি পাওয়ার কার, দুটি গার্ডব্রেক ও একটি খাওয়ার বগি।

১২টি কোচ নিয়ে চলবে ট্রেনটি। আসন সংখ্যা ৯২৮। এর মধ্যে এসি চেয়ার ১৬০টি, শোভন চেয়ার ৬৪৪টি, খাবার গাড়িতে আসন ১০৮টি এবং পাওয়ার কারে ১৬টি। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলবে।

ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ছাড়বে বেলা ১টা ১৫ মিনিটে এবং রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়। ট্রেনের ভাড়া একই রটে চলমান ট্রেনের ভাড়ার তুলনায় নন-স্টপ সার্ভিস চার্জ ১০ শতাংশ বেশি আরোপিত হবে।

এছাড়া এই ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নিজস্ব ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিসেস (বিআরসিটিএস) দ্বারা খাবার সরবরাহ করা হবে। খাবার মূল্য ১৫০ টাকাসহ শোভন চেয়ারের মূল্য ৪২৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের মূল্য ৮৭৫ টাকা। এছাড়া ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে প্রতিটি বগিতে।

বিরতিহীন এ ট্রেন হলো দেশের সর্বাধুনিক হাইস্পিড কোচের ট্রেন। ঘণ্টায় এর গতি হবে ১৪০ কিলোমিটার; অর্থাৎ প্রতি মিনিটে পাড়ি দেবে আড়াই কিলোমিটার পথ। বিদ্যমান ট্রেনগুলোতে এখন ৩৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগে। এতে রাজশাহী-ঢাকা ট্রেন ভ্রমণে সময় বাঁচবে আড়াই ঘণ্টা।

বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করছে আন্তঃনগর পদ্মা, ধূমকেতু ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস। শুরুতে সীমিত স্টেশনে থামলেও এখন ১৪টি স্টেশনে থামছে ট্রেনগুলো। ফলে অনেকটা লোকাল ট্রেনের মতো অবস্থা এসব ট্রেনের। মাঝেমধ্যে লেগে যায় শিডিউল বিপর্যয়। এতে বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। ফলে নতুন বিরতিহীন ট্রেনের জন্য উন্মুখ এখানকার মানুষ।

x

Check Also

উ. কোরিয়ায় নির্বাচনে ৯৯.৯৮ শতাংশ ভোট

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উ. কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে গতকাল রবিবার ভোট দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ...

Scroll Up