চীনা ডেমু ট্রেন নতুন করে আর নয় : শেখ হাসিনা

এমএনএ রিপোর্ট : দেশের ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) ট্রেন চালুর ছয় বছর পর চলাচল উপযোগী নয় বলে নতুন করে চীনা ডেমু ট্রেন কেনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রস্তাব তোলা হলে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, এর আগে কেনা ডেমু ট্রেনগুলো যেহেতেু যাত্রীদের উপকারে আসেনি এবং অনেকগুলো নষ্ট হয়ে আছে। তাই নতুন করে এই ট্রেন কেনা হবে না।

একনেক সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এবং ঢাকার মধ্যে শাটল ট্রেন চালুর লক্ষ্যে ডেমু সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেমু চলাচল উপযোগী নয়। অন্য কোনো ট্রেন আমদানি করতে হবে।

পরিকল্পনা সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এর আগে কেনা ডেমু ট্রেনগুলো যেহেতেু যাত্রীদের উপকারে আসেনি এবং অনেকগুলো নষ্ট হয়ে আছে। তাই নতুন করে এই ট্রেন কেনা হবে না। প্রকল্পটি সংশোধন করে অন্য কোনো ট্রেন কিনতে হবে। তবে তিনি ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ননস্টপ ট্রেন সার্ভিস চালু এবং অন্যান্য রুটে ট্রেনগুলো যাতে স্টেশন ধরে যায় সে ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন।

এ প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে অন্য কোনও ট্রেন আমদানির নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

এছাড়া ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত সকালের অফিস সময়ের ট্রেনটি বিরতিহীন করার নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা। তবে পরের ট্রেনগুলোকে সব স্টেশনে বিরতি রাখতে বলেন তিনি ।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জাঁকজমক অনুষ্ঠানে দেশে প্রথম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডেমু ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ৪২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ডিইএমইউ ট্রেন চীন থেকে আমদানি করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হয় ৬৫৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালন) মিহির কান্তি গুহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমদানি করা ২০ ট্রেনের অর্ধেকই বিকল। ঢাকা-কুমিল্লা, আখাউড়া-সিলেট, লালমনিরহাট-পার্বতীপর, লাকসাম-চট্টগ্রাম ও লাকসাম-চাঁদপুর রুটে ডেমু চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এখন ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে ১০ সেট ডেমু ট্রেন চলাচল করছে। চার সেট ট্রেন মেরামতের অপেক্ষায় আছে। এগুলো ঠিক হলে আরও কয়েকটি রুটে চলাচল শুরু করবে।

একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

x

Check Also

গরুর মাংসের চাপ আর পরোটা

এমএনএ ফিচার ডেস্ক  : রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে যখন ক্ষুধা লেগেছে অনেকদিনই হয়তো ছুটে ...

Scroll Up