Don't Miss
Home / রাজনীতি / অনিবন্ধিত দলের বড় দলের প্রতীকে আগ্রহ বেশি
নির্বাচন

অনিবন্ধিত দলের বড় দলের প্রতীকে আগ্রহ বেশি

এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন অনেক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান করে জোটের পরিসীমা বাড়ানোর চেষ্টায় রত। এরইমধ্যে অনেক দলের বড় জোটগুলোতে আশ্রয় মিলেছে। অনেক নতুন দল আবার নিজেরা মিলে নতুন জোট গড়ে তুলছে। তবে এসব দলের অধিকাংশই ভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। যে কারণে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধনভুক্ত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে না তারা। উপরন্তু বড় দলগুলোর সঙ্গে মিশে তাদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করছেন এসব দলের নেতারা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য গত ২৬ মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এমন দলগুলোকে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে বলেছিল সংস্থাটি। এরপর প্রায় আড়াই মাস কেটে গেলেও ইসির এই আহ্বানে নতুন দলগুলোর সাড়া মিলছে না খুব একটা। ইসি ঘোষিত সময়সীমা আর মাত্র ২০ দিন থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৭টি দল আবেদন জমা দিয়েছে। অবশ্য ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, জমা না দিলেও অনেক দল আবেদন ফরম তুলে নিয়েছে। যে কয়েকদিন সময় আছে এর মধ্যেই দলগুলো আবেদনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইসিতে জমা দিবে বলে আশা করছেন তারা।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিবন্ধনের জন্য নতুন দলগুলোর তৎপরতা খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অনেক দল নিবন্ধনভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন ফরম তুলে নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭টি আবেদন ইসিতে জমা পড়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের পর আরও সময় বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই কমিশনের। তবে দলগুলোর হাতে এখনও ২০ দিন সময় রয়েছে। এর মধ্যে তারা আবেদন জমা দিতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলগুলোকে নিবন্ধন দেয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করার বিধান রয়েছে। কেননা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না দিলে কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। এ লক্ষ্যে গত ২৬ মে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে বলা হয়- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০ (ক) এর অধীন নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮-এ উল্লিখিত শর্তাবলি পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলসমূহকে বিধিমালায় সংযোজিত ফরম-১ নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশিকা মোতাবেক পূরণপূর্বক আগামী ২৯ আগস্ট, ২০২২ তারিখের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

নিবন্ধীকরণে আগ্রহী রাজনৈতিক দলকে স্বীয় লেটারহেড প্যাডে দরখাস্ত করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে যা জমা দিতে হবে- ক. দলের গঠনতন্ত্র। খ. দলের নির্বাচনী ইশতেহার, যদি থাকে। গ. দলের বিধিমালা, যদি থাকে। ঘ. দলের লোগো ও পতাকার ছবি। ঙ. দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সব সদস্যের পদবিসহ নামের তালিকা। চ. দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং উক্ত অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি। ছ. দলের তহবিলের উৎসের বিবরণ। জ. দলের নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুক‚লে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র। ঝ. নিবন্ধন ফি বাবদ সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাবরে জমাকৃত অফেরতযোগ্য টাকার ট্রেজারি চালানের কপি (ট্রেজারিতে টাকা জমাদানের কোড নম্বর-১০৬০১০১১০০১২৫-১১০০০০০০০-১১০০১০০০-১৪২২২০৪)।

ঞ. দরখাস্ত দাখিলের দিন পর্যন্ত। অ. বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভের সমর্থনে প্রামাণিক দলিল। আ. বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ শতাংশ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র। ই. দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ, তা যে নামেই অভিহিত হোন না কেন, একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় দপ্তর অন্যূন এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর এবং অন্যূন একশ উপজেলা বা ক্ষেত্রমতে, মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং প্রতি উপজেলায় বা ক্ষেত্রমতে, থানায় অন্যূন দুইশ ভোটার সদস্য হিসেবে দলের তালিকাভুক্ত থাকার সমর্থনে প্রামাণিক দলিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ওই দলের অনুক‚লে কমিশন ফরম-৩ এ একটি নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করবে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে ইসি।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নামে-বেনামে দু’শর বেশি অনিবন্ধিত দল বড় দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে। অনেক দল আদর্শিক বিবেচনায় নয়, আগামী নির্বাচনে জোটের কাঁধে চড়ে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্যই জোট বাঁধতে চাচ্ছে তারা। বড় দলগুলোও জোটের আকার বাড়াতে এদের কাছে টানছে। বেশ কয়েকটি নতুন দলের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, বড় দলগুলোর প্রতীক সবার চেনা। তাই তাদের নেতৃত্বাধীন জোটে অংশগ্রহণ করে ওইসব প্রতীকে মনোনয়ন নিতে পারলে জয় অনেকটাই অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। তাই এই প্রচেষ্টা। নিবন্ধনে অনাগ্রহের বিষয়ে তারা বলেন, এতে অনেক জটিলতা থাকে। নির্বাচন কমিশনের নানা শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই সক্ষমতা অর্জনের আগ পর্যন্ত নিবন্ধনের চেষ্টা করে লাভ নেই।

নামসর্বস্ব এসব দলের অনেক নেতার উদ্দেশ্য ‘অসৎ’ মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভোগবিলাস আর প্রদর্শন ইচ্ছা থেকে তারা রাজনীতিতে আসে। তাদের কাছে দল গঠন গেমের মতো। যে কোনোভাবে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার টার্গেট থাকে। এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে ফটোসেশন, বিভিন্ন কর্মসূচিতে কভারেজ পাওয়ার একক আয়োজন এটি। ক্ষমতা ভাগ-বাটোয়ারার আশা তো থাকেই। এদের কার্যকলাপ রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। তিনি বলেন, এসব দল নিবন্ধন করে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করলে জামানত বাজেয়াপ্তের সম্ভাবনা থাকে। বড় দলের সঙ্গে জোট করলে সেই দলের প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া সহজ হয়। এই সুযোগটা কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। এতে অনেক যোগ্য ব্যক্তি মনোনয়নবঞ্চিত হন।

সর্বশেষ দল নিবন্ধনের জন্য ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। সময় দেয়া হয়েছিল ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছিল ৭৬টি রাজনৈতিক দল। কেএম নুরুল হুদা কমিশন নানা কারণে সবার আবেদন বাতিল করেছিল। পরে আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। তার পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে ৪৩টি দল আবেদন করেছিল। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন সেসময় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এ দুটি দলকে নিবন্ধন দেয়। এক এগারো সরকারের সময় ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দলগুলোকে নিবন্ধন দেয়। সেসময় ১১৭টি দল আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর নিবন্ধন পায় ৩৯টি দল। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে মোট ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করা হয়। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।

বর্তমানে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), গণতন্ত্রী পার্টি, লিবারেল ডেমোকক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

এ পর্যন্ত যে পাঁচ দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ফ্রিডম পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

x

Check Also

আবারও ছড়িয়ে পড়ছে হাম, ২৩.২% শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ ...