Don't Miss
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগের কপালে চিন্তার ভাঁজ!
ধারাবাহিকতায় নিজেকে আশঙ্কামুক্ত মনে ক

আওয়ামী লীগের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

এমএনএ রাজনীতি ডেস্ক : টানা তৃতীয় দফা সরকারে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় থাকার এই নিরঙ্কুশ ধারাবাহিকতায় নিজেকে আশঙ্কামুক্ত মনে করেছিল দলটি। কিন্তু সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর মধ্যে আকাশচুম্বী নিত্যপণ্যের দাম। একের পর এক কর্মসূচিসহ দেশীয়-আন্তর্জাতিক লবিং অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। সঙ্গত কারণেই এসব নানামুখী চাপ কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে সরকার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি নিয়ে আমরা চিন্তিত। আগামী ২২ মাস পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোন কৌশলে এগোবে সেটি এখনও নির্ধারণ হয়নি। সমমনা বামপন্থি ও কিছু মধ্যপন্থি ইসলামী দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট সম্প্রসারণ করা হবে, নাকি যেভাবে আছে তা নিয়েই এগোবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো কিছু ঠিক হয়নি। নির্বাচন পদ্ধতি কেমন হবে, সেটি নিয়েও চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে একের পর এক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। এত চাপে রাখার পরও তাদের মধ্যমমানের কর্মসূচিতেও হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। পাশাপাশি বিএনপির দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লবিং তো রয়েছেই। দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রও রয়েছে। অর্থাৎ সরকার ও আওয়ামী লীগের ওপর নানামুখী চাপ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওই দুই নেতা।
তারা বলেন, সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলেছে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি। যদিও আমরা বলে আসছি, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে দাম বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষ ভালো নেই। ইতোমধ্যে বিএনপি কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছে। বামদলগুলো আগামী ২৮ মার্চ আধাবেলা হরতালের কর্মসূচি দিয়েছে। ফলে সরকার ও আওয়ামী লীগ একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এখন যদি কোনো কারণে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে যায়, তার খেসারত আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। এর প্রভাব পড়বে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর।
নেতাদ্বয় বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে ১৪ দল একটি আদর্শগত জোট। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে শরিকদের সঙ্গে। শরিকদের কাউকে না নিয়েই আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা গঠনের পর এ অবস্থা তৈরি হয়। এ অবস্থা থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়, তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে ৩০০ সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর জরিপ চালানোর কাজ এখনও শুরু হয়নি। ওই জরিপের ওপর নির্ভর করবে কার কপাল খুলবে আর কার পুড়বে। কারণ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা দলীয় মনোনয়ন পাননি। ফলে মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না তা নিয়েও দলের অনেক ডাকসাইটে নেতা চিন্তিত।
তবে ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের একটি বৃহৎ দল। এই দলের সঙ্গে দেশের ৮০ ভাগ লোক রয়েছে। বিএনপির কর্মসূচিকে আওয়ামী লীগ কখনও ভয় পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে হবে, কোন পদ্ধতিতে হবে, সেটি নিয়ে দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। দলের তৃণমূলকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেজন্য তৃণমূলের সম্মেলনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূলে কিছু কোন্দল রয়েছে, তা মেটাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা কাজ করছেন।
তারা বলেন, সম্প্রতি দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে চিন্তা করছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি নিজেই বাজার মনিটরিং করছেন। তিনি আরও একটি কথা বলেছেন, নিত্যপণ্যের দাম শুধু বাংলাদেশেই বাড়েনি, আন্তর্জাতিক বাজারেও বেড়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সঙ্কট থেকে আমরা বেরিয়ে আসব।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখনও বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমেই বলে নিই, আওয়ামী লীগ বা সরকার কোনো কারণেই চিন্তিত নয়। গত দুবছরে শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমরা করোনা সঙ্কট মোকাবিলা করেছি। করোনার অভিঘাতে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আমাদের দেশেও বেড়েছে। এখানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত। বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করছে। তারা যদি অসহিংস আন্দোলন করে, তা হলে এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। কারণ তারা দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাই আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু আন্দোলনের নামে কোনো সহিংসতা করলে, সেটি হবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এটি কখনও বরদাশত করবে না সরকার।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আছে। জনগণ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী ও উন্নয়ন যুগান্তকারী, তাই কোনো সমাবেশ করে লাভ নেই। বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য। দলের দুই বড় নেতা দণ্ডিত আসামি। অর্থাৎ আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হবে জেনেই তারা নির্বাচনে আসতে চায় না। তারা দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দেশ এগিয়ে যাওয়ার পথে বিরোধীচক্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশ যখন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশবিরোধী এসব চক্রান্ত প্রতিহত করতে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। আমরা কে কী করছি নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সে আমলনামা যায়। আগামীতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সেভাবে কাজ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এটি সত্য। আবার সরকার বিভিন্ন পণ্যের ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। টিসিবির মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তেলের ফ্যাক্টরিগুলো ভিজিট করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক বাজারেই অর্থনীতি ওঠানামা করছে। রাশিয়া তেল বন্ধ করে দেওয়ায় আমেরিকাতেও তেলের দাম বেড়েছে।
এ নিয়ে অবশ্য আওয়ামী লীগ ও সরকার একটু উদ্বিগ্ন। তবে আমরা চেষ্টা করছি, আসন্ন রমজানের মধ্যেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বিরোধীদলগুলো তো সস্তা ইস্যু পেলেই সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মাঠে নামে। কিন্তু বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই বিরোধীদল আন্দোলন-সংগ্রাম করতেই পারে। তবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি একটি রাজনৈতিক ইস্যু, এটা নিয়ে দেশের জনগণ রাস্তায় নামবে না।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করা বিএনপির ধর্ম। তারা সরকারের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল। কিন্তু এখন সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি বুঝে ফেলেছে, তাই তারা আর বিএনপির ষড়যন্ত্রে পা দেবে না। নির্বাচন যথাসময়েই হবে। তাদের কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না। দেশের ৮০ ভাগ জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে।
x

Check Also

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে জলাবদ্ধতা: নগরজীবন স্থবির, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের তাগিদ

এমএনএ প্রতিবেদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল ...