Don't Miss
Home / জাতীয় / আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার উপকূলজুড়ে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত, প্রভাব পড়বে বাজারে

আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার উপকূলজুড়ে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত, প্রভাব পড়বে বাজারে

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার উপকূলজুড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, দমকা হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক লবণচাষিরা। গত তিন দিনের বৃষ্টিপাতে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে গলে নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে অনেক চাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়ার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালীর কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া অঞ্চলের লবণ মাঠগুলোতে। এসব এলাকায় শুধু লবণই নষ্ট হয়নি, বরং উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা ‘কাই’ও ভেঙে গেছে। ফলে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

লবণচাষিরা জানান, মৌসুমের শেষ দিকে এসে তারা বেশি লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিই তাদের সেই আশাকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকার চাষি নুর আহমদ বলেন, “মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে। এত পরিশ্রম সব বৃথা হয়ে গেল।” একইভাবে কুতুবদিয়ার লবণমাঠ মালিক আনসার উল্লাহ বলেন, “ঋণ করে মাঠ নিয়েছি। লবণের দাম আগেই কম ছিল, এখন এই ক্ষতির পর ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে লবণাক্ত পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনের জন্য বাড়তি শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে, যা চাষিদের খরচ বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় এখান থেকে গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

তবে চলমান বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু চাষিদের ক্ষতিই বাড়বে না, বরং জাতীয় পর্যায়েও লবণ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...