এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন। জার্মানির হামবুর্গে শুরু হওয়া জি-২০ (গ্রুপ অব ২০) সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে তাঁরা স্থানীয় সময় আজ বিকেলে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাসী এ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
সংঘাতপূর্ণ দীর্ঘ অতীতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে যেকোনো বৈঠক এমনিতেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইরান ইস্যুতে দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থানের মতো বিষয়গুলো। আর মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি তো রয়েছেই। এই নানাবিধ কারণেই বিশ্ববাসীর কাছে এই দুই বিশ্বনেতার আজকের বৈঠক অন্য সময়ের চেয়েও বেশি কৌতূহলের কারণ হয়ে উঠেছে।
আজকের এ বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় উঠে আসবে, সে সম্পর্কে রুশ বা মার্কিন—কোনো পক্ষ থেকেই সুস্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ বৈঠকে সিরিয়া, ইউক্রেনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসতে পারে বলে দুই পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যমে বৈঠকটির পরিসর এক ঘণ্টা বলা হলেও অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোয় এর দৈর্ঘ্য বলা হচ্ছে আধা ঘণ্টা। বৈঠকের পর তাঁরা কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমনকি এ দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কতটা থাকবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হওয়ার পর ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেছিলেন। এরপর গত মে
মাসেও দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়। এ দুই ক্ষেত্রেই হোয়াইট হাউস ও ক্রেমলিন পুরু আলাপচারিতার একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু না জানা গেলেও এটা নিশ্চিত যে জি-২০ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে এ দুই ব্যক্তির অবস্থান থাকবে বিপরীত দিকেই। বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্য বিশ্বনেতাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র কিছুদিন আগেই ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ইস্যুতে রাশিয়া যে চুপ থাকবে না, তা সহজেই অনুমেয়। এর আঁচ সরাসরি গিয়ে লাগবে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে।
বৈঠকে ইউক্রেন প্রসঙ্গটি যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে, তা দুই নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই সুস্পষ্ট। বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে অবস্থানকালে ট্রাম্প অন্য কোনো দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। আবার পুতিনের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে রাশিয়ার ওপর ২০১৪ সালে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরোপিত ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল ক্রিমিয়ায় হস্তক্ষেপের কারণে।
দুই নেতার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে সিরিয়ার প্রসঙ্গটি কম এলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে রুশ-মার্কিন বিপরীত অবস্থানের বিষয়টি সবারই জানা। স্বাভাবিকভাবেই সিরিয়া প্রসঙ্গ এ আলোচনায় উঠে আসতে পারে। জার্মানির উদ্দেশে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের আগে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন ট্রাম্প। দেশটিতে যুদ্ধবিরতি থেকে শুরু করে মানবিক সাহায্য প্রদানের মতো বিষয়গুলোয় দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

