Don't Miss
Home / জাতীয় / বিবিধ / আজ বেগম রোকেয়ার ১৩৯তম জন্মদিন

আজ বেগম রোকেয়ার ১৩৯তম জন্মদিন

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ৯ ডিসেম্বর, এই উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৯তম জন্ম এবং ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে সরকারিভাবে পালন করা হচ্ছে রোকেয়া দিবস।

বেগম রোকেয়া। যার স্বপ্ন ছিল সমাজে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাঁচবে। অন্তঃপুরে অবরোধবাসিনী হয়ে না থেকে নারী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে; নানা কর্মে নিযুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির সহায়ক হবে। নারী হবে আদর্শ বোন, আদর্শ গৃহিণী কিংবা একজন আদর্শ মা। সমাজ-সংসারে নারী জেগে উঠবে সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে।

বেগম রোকেয়া নারী মুক্তির এই স্বপ্নের কথা বলে গেছেন তার গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ সব লেখালেখিতে। শুধু লেখনীতে নয়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নারীশিক্ষার প্রসারে তিনি কাজ করে গেছেন আমৃত্যু। বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃৎ এই মহীয়সীর জন্মদিন আজ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জমিদার পরিবারে রোকেয়ার জন্ম। ১৯৩২ সালের এই দিনেই মারা যান তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করা হবে বেগম রোকেয়াকে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোকেয়া দিবস উদযাপন ও বেগম রোকেয়া পদক-২০১৯ প্রদান করা হবে আজ। এবার পদক পাচ্ছেন পাঁচ বিশিষ্ট নারী। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীমুক্তি, সমাজসংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ। তিনি উন্নত মানসিকতা, দূরদর্শী চিন্তা, যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রদান ও বিশ্নেষণ, উদার মানবতাবোধের অবতারণা এবং সর্বোপরি দৃঢ় মনোবল দিয়ে তৎকালীন নারী সমাজকে জাগিয়ে তোলেন। রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও কর্ম নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।’

দিবসটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব শ্রেণি-পেশার নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বেগম রোকেয়ার কর্মে ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন। নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’

বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘‘মেয়েদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে, যাহাতে তাহারা ভবিষ্যত জীবনে আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ জননী এবং আদর্শ নারীরূপে পরিচিত হইতে পারে’’।নারীর স্বাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া সেই মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের রংপুরের পায়রাবন্দে ৯ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালের একই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।বাঙ্গালী নারী আন্দোলনের অগ্রদূত ও সমাজ সংস্কারক এই নারীর ১৩৭তম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা।

নারীমুক্তি আন্দোলন ও নারী জাগরণ বেগবান করার দৃপ্ত শপথে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সারাদেশে আজ দিবসটি পালিত হবে। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। রংপুরের পায়রাবন্দে জন্ম নেওয়া রোকেয়ার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। বৈবাহিকসূত্রে নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় রোকেয়া ও তার বোনদের বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়নি, তাদের ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনা ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান। ১৮ বছর বয়সে রোকেয়ার বিয়ে হয় ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর রোকেয়ার আধুনিক পড়ালেখা আরও পুরোদমে শুরু হয় এবং তিনি সাহিত্যাঙ্গনেও পদার্পণের সুযোগ পান। বেশ কয়েকটি স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রোকেয়া নিজেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখেন।

বেগম রোকেয়া শুধু সমাজ সংস্কারক ছিলেন না। সাহিত্য রচনায়ও তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। সওগাত, নবনূর, মোহাম্মদী ইত্যাদি সাহিত্যপত্রে তাঁর গল্প, কবিতা ও ব্যাঙ্গাত্নক রচনাও নিয়মিত প্রকাশিত হতো।এসব লেখায় নারীর মুক্তিচিন্তা, তাদের সমঅবস্থানের গুরুত্ব,সমাজ সংস্কার আর পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহই ছিলো মূল বিষয়।

১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এর পাঁচ মাস পর রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ভাগলপুরে। ১৯১০ সালে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার ফলে স্কুল বন্ধ করে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। এখানে ১৯১১ সালের ১৫ মার্চ তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পুনরায় চালু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ছাত্রী ছিল ৮ জন। চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪-তে। ১৯৩০ সালের মাঝে এটি হাই স্কুলে পরিণত হয়।

তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা Sultana’s Dream। যার অনূদিত রূপের নাম সুলতানার স্বপ্ন। এটিকে বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যে একটি মাইলফলক ধরা হয়। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলি হল : পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচুর। তাঁর প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর রচনা দিয়ে তিনি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার রোধ করতে চেয়েছেন, শিক্ষা আর পছন্দানুযায়ী পেশা নির্বাচনের সুযোগ ছাড়া যে নারী মুক্তি আসবে না –তা বলেছেন।

রোকেয়া পদক পাচ্ছেন পাঁচ নারী: এ বছর ‘বেগম রোকেয়া পদক’ এর জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে চূড়ান্ত করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারীশিক্ষা, অধিকার, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে এ বছর পদক পাচ্ছেন সেলিনা খালেক। নারীশিক্ষায় অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার, নারীর অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য পদক পাচ্ছেন ড. নুরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা (মরণোত্তর)। এ ছাড়া পাপড়ি বসু নারীর অধিকার ও বেগম আখতার জাহান নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য পদক পাচ্ছেন। পদকপ্রাপ্তরা বা তার পরিবারের প্রতিনিধিরা আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০১৯’ গ্রহণ করবেন।

তিন দিনের কর্মসূচি: রোকেয়া দিবস উপলক্ষে পায়রাবন্দে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিসহ রোকেয়া মেলা। দিবসটি পালনে রংপুর জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রথম দিন সকাল ৯টায় রোকেয়া স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম। সভায় সভাপতিত্ব করবেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। প্রধান আলোচক থাকবেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। আলোচনা করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি চলবে। দুপুর ১টায় পায়রাবন্দ জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশিত হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে হবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। বিকেল ৪টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। বিশেষ অতিথি থাকবেন রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুকরিয়া পারভীন, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক। সভাপতিত্ব করবেন মিঠাপুকুরের ইউএনও মামুন ভূঁইয়া। প্রবন্ধ পাঠ করবেন মাহীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ড. নাসিমা আকতার। আলোচক থাকবেন সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের অধ্যাপক আরেফিনা বেগম ও রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল।

তৃতীয় দিনে দুপুর ২টায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার একেএম তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন রংপুর রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্য, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার। সভাপতিত্ব করবেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. শরিফা সালোয়া ডিনা। আলোচক থাকবেন কাউনিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য। বিকেল ৫টায় পুরস্কার বিতরণ ও পদক বিতরণ। সন্ধ্যায় নাটিকা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

x

Check Also

করোনা ভাইরাসে

করোনায় বিশ্বব্যাপী ১১ লাখ ৭১ হাজার জন মানুষ প্রাণ হারাল

এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে ১১ লাখ ৭১ হাজার ৩৩৭ ...

Scroll Up
%d bloggers like this: