এমএনএ প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের মুখে একসঙ্গে ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ আপাতত থমকে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সাড়া না দেওয়ায় এবং প্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়ম ও ঘুসবাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১,৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নিলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে—এ বিবেচনায় অর্থ বিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এ কারণে শিক্ষা উপদেষ্টাও বিষয়টি নিয়ে আপাতত আর অগ্রসর হতে আগ্রহী নন।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী ১,৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচনা করে এমপিওভুক্তির অনুমতির জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত অর্থ বিভাগ থেকে কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সময় মোট ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে।
আবেদন গ্রহণ শেষে মাত্র আট কর্মদিবসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত যাচাই সম্পন্ন করে এমপিও কমিটি। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচনা করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—৪৭১টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, ৭৮টি স্নাতক (পাস) কলেজ, ২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজ এবং ৩৫টি স্নাতকোত্তর কলেজ।
তবে এত স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্তির উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস লেনদেন হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এ লেনদেনের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও নামমাত্র চলমান কিছু স্কুল ও কলেজকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের ওপর হঠাৎ করে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

