Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / আত্মসমর্পণের পর সাংসদ আমানুর কারাগারে

আত্মসমর্পণের পর সাংসদ আমানুর কারাগারে

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার পলাতক আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপি রানা টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামিন আবেদনের শুনানিতে সরকারপক্ষে পিপি আলমগীর খান মেনু ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুল বাকি, অ্যাডভোকেট লিটনসহ সিনিয়র আইনজীবীরা অংশ নেন।

mp-rana-2এ সময় আদালতে মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, আসামীর পিতা আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আদালত চত্বরে বিপুলসংখ্যক উৎসক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত এপ্রিলে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অভিযোগপত্রে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এমপি রানার ভাইয়েরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)।

এ মামলার অন্য ১০ আসামি হলেন- কবির হোসেন, আনিছুল ইসলাম (রাজা), মোহাম্মদ আলী, সমীর মিয়া ও ফরিদ আহমেদ, এমপি রানার দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁত ভাঙ্গা বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁন, নাসির উদ্দিন নূরু, ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক পৌর কমিশনার মাসুদুর রহমান।

উপরোক্ত আসামিদের মধ্যে আনিছুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও সমীর মিয়া কারাগারে এবং ফরিদ আহমেদ জামিনে আছেন। বাকিরা পলাতক।

এর আগে গত ১৭ মে বিচারিক হাকিম আদালত রানা এমপি ও তার তিন ভাইসহ পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া ও ক্রোক পরোয়ানা জারি করেন। গত ২০ মে এমপি রানা এবং তার ভাইদের অস্থাবর সম্পত্তিও ক্রোক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ রানার সম্পৃক্ততা পান। পরে ওই বছর ১১ আগস্ট সাংসদের দেহরক্ষী আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। mp-rana-3জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৪ আগস্ট আরেক আসামি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছর ৫ সেপ্টেম্বর সেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বিচারক শেখ নাজমুন নাহার জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী জানায়, সাংসদ রানা, তার তিন ভাই এবং আরও তিনজন ফারুক আহম্মেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। আনিসুলও জবানবন্দিতে ফারুক হত্যায় সাংসদ রানা ও তার তিন ভাইয়ের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। মামলায় ৩৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বছরের ১৪ জুলাই হাইকোর্টে এ মামলায় জামিনের জন্য আবেদন করেন সাংসদ রানা। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে ১৫ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। ওই সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করারও নির্দেশ দেন আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার জজ আদালত রানাকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ বহাল রাখেন। কিন্তু সে নির্দেশ অমান্য করে সাংসদ রানা আত্মগোপনে চলে যান।

এই মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গোলাম মাহফিজুর রহমান। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

উল্লেখ্য,  ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহম্মেদকে শহরের কলেজপাড়ায় নিজ বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর দু’দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

ট্যাগ : সাংসদ রানা, কারাগারে, আদালত, আমানুর রহমান
x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...