এমএনএ রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাগুরায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবেন, আপনাদের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জেলার মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
একটা সুন্দর সমাজ গড়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি বা আবেদন, এখানে (মাগুরায়) যেন কোনো রকম সন্ত্রাস স্থান না পায়। মাদক যেন কেউ গ্রহণ না করে। ছেলেমেয়েরা মাদক থেকে বেরিয়ে আসে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকদের বলবো, ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেন; তারা যেন বিপথে না যায়।
আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশকে ডিজিটাল করবো, সেটাই করেছি- এমন মত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি বিএনপি আমলের কথা বলি- তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কারো হাতে তো মোবাইলই ছিল না। অনেক দাম ছিল মোবাইলের।
মাগুরাবাসীর জন্য তিনি বলেন, আমি কিন্তু খালি হাতে মাগুরায় আসিনি। উপহার নিয়ে এসেছি। অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন করা হলো।
এ সময় তিনি আজ মঙ্গলবার উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বলেন, মাগুরাবাসীর দাবি রেল লাইন; এটি যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ক্ষমতায় এসে তারা সারা দেশে শুরু করে অত্যাচার নির্যাতন। তাদের আমলে এই মাগুরা সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল।
১৯৯৪ সালে এই জেলায় উপ-নির্বাচনে বিএনপির ভোট চুরি এবং চুরির দায়ে বিএনপি নেত্রী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি শুধু মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতনই করেছে। এছাড়া কিছুই দিতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশে যত উন্নয়ন হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে।
এই জনসভা থেকে তিনি সম্প্রতি শ্রীলংকার বিপক্ষে শততম টেস্টে জয়লাভ করায় মাগুরার সন্তান সাকিব আল হাসানসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।
এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মাগুরায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, শ্রীপুর ও মোহাম্মদপুরে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবনসহ ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী মাগুরা যান।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

