Don't Miss
Home / আইন আদালত / আরও দুই সপ্তাহ চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

আরও দুই সপ্তাহ চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

এমএনএ রিপোর্ট : আরও দুই সপ্তাহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল কোর্ট) আদালত পরিচালনা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালো আপিল বিভাগ।

সময় চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করেন।

ফলে আরও দুই সপ্তাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চলতে বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আরও দুই সপ্তাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। আদালত দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

তিনটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

সংবিধানের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ও উপধারাসহ ১১টি বিধান সাংঘর্ষিক জানিয়ে রায়ে বলা হয়, এসব বিধানের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সন্মুখ আঘাত।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাঠামো রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি মৌলিক কাঠামোরও বিরোধী।

পরে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে গত ১৪ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষে। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে সেদিনে চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের রায় ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। পরে ২১ মে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। আদালত ২ জুলাই পর্যন্ত শুনানি মূলতবি করেন। পরে ৪ জুলাই দুই সপ্তাহ শুনানি মূলতবী করেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় আজ ফের দুই সপ্তাহের জন্য শুনানি মূলতবি করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা ও উপধারা চ্যালেঞ্জ করে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আইনটির কয়েকটি বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

একই বছর ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের বিধান চ্যালেঞ্জ ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে তিনি রিট করলে হাইকোর্ট রুল জারিসহ সাজার আদেশ স্থগিত করেন।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন তৃতীয় রিটটি করেন। ওই রিটের ওপর ওই বছরের ৮ মে হাইকোর্ট রুল জারিসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। পৃথক তিনটি রিটের ওপর হাইকোর্টের রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট।

x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...