আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ পরিত্যাগ করে এবং ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান জানায়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্ভব।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনায় ব্যর্থতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো বন্ধ হয়নি। তিনি ইরানি প্রতিনিধি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ
গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টাব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ হলেও সেখানেও কোনো চুক্তি হয়নি।
উত্তেজনার পটভূমি ও সামরিক উত্তেজনা
দুই যুগ ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের বিরোধ চলছে। আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি একাধিকবার সামরিক উত্তেজনায় রূপ নেয় বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করছে।
পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে আবারও কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ব্যর্থ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ইরানের জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর মন্তব্য
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আলোচনায় ইরান কিছু শর্ত মানেনি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইরানকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও তুরস্কের মন্তব্য
এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পর ইসরায়েল তুরস্ককেও নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তার মতে, ইসরায়েল সংঘাতের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে চাইছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তরিক, যদিও আলোচনা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি।
ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্ভাবনা
সব পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক নতুন চুক্তির দিকে এগোতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বজায় থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

