এপ্রিলেই ধর্ষণের শিকার ১৩৪ নারী
Posted by: News Desk
April 30, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ১৩৪ টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৪০১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৫৬ টি, এর শিকার হয়েছেন ১৩৪ জন নারী।
মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৪ টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য উঠে আসে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। ২৮ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১২ জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪ জন। অ্যাসিডদগ্ধের শিকার হয়েছেন ২ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছেন ১১ জন এবং বিভিন্ন কারণে ৪১ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১ জন, এর মধ্যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে । শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯ জন। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ২১ জনকে, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৫ জন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ২৫ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন এর মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা শিকার ৮ জন ও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ২ জন এবং ১৬ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বাল্যবিবাহ ঘটেছে ১৩ টি ও বাল্যবিবাহের প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে ১১ টি। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৮ টি এবং ২ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও প্রায় সকল স্তরেই নারীরা প্রতিনিয়তই বিভিন্নমুখী নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দিন দিন এসব বিভিন্নমুখী সহিংসতা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারীকে কমবেশি ঘরে ও বাইরে নিপীড়ন-লড়াই-বৈষম্যের মধ্যে দিয়ে জীবন পার করতে হয়। এ যেন স্রোতের বিপরীতে পাড়ি জমানোর মতো ঘটনা। বাংলাদেশে এমন নারীর সংখ্যাই অধিক। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশু ধর্ষণ, কিশোরী কিংবা তরুণীদের অপহরণ, প্রকাশ্যে হত্যার অপচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর কারণ হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির প্রসার, বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
ধর্ষণের শিকার এপ্রিলেই ১৩৪ নারী 2019-04-30