Don't Miss
Home / বিনোদন / সংগীত / কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর নেই

কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর নেই

এমএনএ রিপোর্ট : কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর নেই (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। আজ শনিবার (২৩ মার্চ) দিনগত রাত ১টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। ৬৭ বছর বয়সী এই শিল্পী বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।

সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন ও গীতিকার-গায়ক শফিক তুহিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শওকত আলী ইমন জানান, ‘আমি একটু আগেই খবরটা পেলাম। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর বারিধারায় নিজের বাসাতেই ছিলেন। উনার মৃত্যু একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে দিল। তার জন্য দোয়া চাই সবার কাছে।’

সংগীত শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারপ্রধান প্রয়াত এ শিল্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিলেন দেশাত্ববোধক গানের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’। এরকম বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ৫০ বছরের সংগীত জীবনে তার চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়।

বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র গাওয়া চারটি গান স্থান পায়। ১৯৯২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও অনেক স্বীকৃতি।

২০০৬ সালের মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার শ্রোতারা তাদের বিচারে সেরা যে পাঁচটি গান মনোনয়ন করেছেন, তার ভিত্তিতে বিবিসি বাংলা তৈরি করেছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কুড়িটি বাংলা গানের তালিকা। সেই তালিকায় চারটি গান রয়েছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া। তার মধ্যে ৯ নম্বরে আছে ‌‌‌‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ গানটি। এই গানের গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমান।

তালিকায় ১৩ নম্বর স্থান দখল করে আছে শাহনাজের গাওয়া ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি। এই গানের গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার ও সুরকার শিল্পীর বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ। এই গানটি স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত হিসেবে তৈরি করা হয় ১৯৭০ সালে। এটি বাঙালির জাতীয় স্লোগানও।

তালিকার ১৫ নম্বর গানটি ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’। শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া এই গানের গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার ও সুরকার আনোয়ার পারভেজ।

‘একতারা তুই দেশের কথা বল’ গানটি রয়েছে ১৯ নম্বর স্থানে। এই গানটিও আনোয়ার পারভেজের সুরে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় গেয়েছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ।

তবে গাজী মাজহারুল আনোয়ারেরই লেখায় ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের দলীয় সংগীত হিসেবে বেছে নিলে কিছুটা বিতর্কের মধ্যেও পড়ে যান শাহনাজ রহমতুল্লাহ। এই গানটিও তুমুল জনপ্রিয় বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে।

এ শিল্পী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি। তার বাবা এম ফজলুল হক এবং মা আসিয়া হক। মায়ের হাতেই ছোটবেলায় শাহনাজের গানের হাতেখড়ি।

মাত্র ১১ বছর বয়সে রেডিও এবং চলচ্চিত্রের গানে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। পাকিস্তানে থাকার সুবাদে করাচি টিভিসহ উর্দু ছবিতেও গান করেছেন। গান শিখেছেন গজল সম্রাট মেহেদী হাসানের কাছে। পাকিস্তান আমলে রেডিওতে তার নাম বলা হতো শাহনাজ বেগম। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘জিভে পাকিস্তান’ গানটিও তার গাওয়া।

১৯৬৪ সালে টিভিতে প্রথম গান করেন। সে হিসাবে সংগীত শিল্পী হিসাবে তার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয় ২০১৪ সালে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ক্যারিয়ারে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান গেয়েছেন তিনি।

বছর সাতেক আগে হঠাৎ গান ছেড়ে ধর্ম-কর্মে মনোযোগী হন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। বাইরে আসতেন না খুব একটা। নামাজ-কোরআনের সঙ্গেই কেটেছে তার জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করা শাহনাজ রহমতুল্লাহ ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৩ সালে মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমতুল্লাহর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে। তারা হলেন- নাহিদ রহমতউল্লাহ এবং একেএম সায়েফ রহমতউল্লাহ। মেয়ে থাকেন লন্ডনে আর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের এক ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করে এখন কানাডা প্রবাসী।

তার বড় দুই ভাই সুরকার আনোয়ার পারভেজ ও প্র‍য়াত চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল।

x

Check Also

চলতি বছরেই দেশে ৫জি সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আশাবাদ

এমএনএ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে চলছে ৪জি নেটওয়ার্ক। ৫জি কবে আসবে ...

Scroll Up