Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / কুকুরের প্রতি সদয় হোন: জয়া আহসান
কুকুরের

কুকুরের প্রতি সদয় হোন: জয়া আহসান

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক: মানুষের পরম বন্ধু। আবর্জনা পরিষ্কারতো আছেই, ম্যানহোলে লুকিয়ে থাকা ইদুর-ছুঁচোরা প্রকাশ্যে আসতে পারে না এই কুকুরের ভয়েই। ভয়ে থাকে নগীর রাতের চোর ডাকাতরাও। এভাবে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তাসহ প্রতিবেশ ব্যবস্থা ঠিক রেখে নগরবাসীর জন্য বড় অবদান রেখে যাচ্ছে প্রাণীটি কিন্তু উপকারের বিপরীতে বরাবরই কুকুর, বিড়াল ও কাকের মতো প্রাণীদের সহ্য করতে হয় নানা নিপীড়ন। সেই চিত্রই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে চিত্রকর্মে।

নগরীতে বেড়েছে কুকুরের উৎপাত। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে জনগণের চলাচল। বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি। তাই সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে ৩০ হাজার কুকুর। তার প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দেয়াল চিত্র এঁকে প্রাণিপ্রেমিদের অভিনব প্রতিবাদের আয়োজন।

এক প্রাণিপ্রেমী বলেন, শুধু কুকুর না, আমাদের আশপাশে যত প্রাণি আছে তারা যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমরা এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।

তারা বলছেন, কুকুর সরিয়ে নিলে রাজধানীর পরিবেশে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে, বাড়বে স্বাস্থঝুঁকিও। একইসঙ্গে বড় ঝুঁকিতে পড়বে পুনর্বাসিত এলাকার মানুষও।

এক প্রাণিপ্রেমী বলেন, গত বছর আমরা ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ হারিয়েছি। ব্যাঙ যদি মশা খেয়ে কমিয়ে দিতে পারতো তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। আমাদের আসলে প্রকৃতিগতভাবেই একটা প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য আরেকটা প্রাণের ওপর নির্ভর থাকতে হয়। এই নির্ভরতা থাকবেই।

পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে যোগ দেন চলচ্চিত্রকর্মী, প্রাণিপ্রেমীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। কুকুর স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পরামর্শ দেন নগর প্রতিবেশব্যস্থার স্বার্থে সব সিটিতে কুকুরের বন্ধ্যাত্মকরণ ও জলাতঙ্কের টিকাদান কর্মসূচিতে জোর দিতে।

অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, আমাদের আশপাশের প্রত্যেকটা জিনিস- সাপ, ব্যাঙ সবকিছুরই আমাদের জীবনে গুরুত্ব আছে। তাদেরকে আমরা, প্রশাসনই বলুন আর নগর কর্তৃপক্ষ যাদেরকে দিয়েই হোক আমরা যে ধ্বংসাত্মক বিষয় ভাবছি…। প্রশাসনের কাজ কিন্তু সৃষ্টিশীলতায় মনোনিবেশ করা। সেখানে তারা যদি এরকম ধ্বংসাত্মক হয়, সেটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।

স্টেলা এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নোনা আহমেদ বলেন, কুকুর কমিউনিটি বেসড হয়। এদের অন্য কমিউনিটিতে নিয়ে গেলে সেখানকার কুকুরগুলো এদের গ্রহণ করবে না। ফলে তারা মারামারি করবে। এতে সেখানকার মানুষও বিরক্ত হবে। ওরাও না খেয়ে মারা যাবে। ফলে এদের সরিয়ে নেয়া বা মেরে ফেলা একই কথা।

পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, একটা সার্ভে করে কতগুলো কুকুর আছে সেটা নির্ধারণ করে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বন্ধত্বের ব্যবস্থা করতে হবে। এই জন্য আমরা শুধু সেইভের কথা বলি না, আমরা ম্যানেজ করার কথা বলি।

২০১৪ সালে একটি বেসরকারি প্রাণীপ্রেমি সংস্থার রিট আবেদনে কুকুর নিধন বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। তারপর থেকে কুকুর নিধনের বিপরীতে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাগুলোতে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গত দুবছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বন্ধ রয়েছে এই কর্মসূচি। এদিকে, ২০১৯ সালের প্রাণীকল্যাণ আইনে মালিকবিহীন কোনো প্রাণি নিধন ও অপসারণ দণ্ডণীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

x

Check Also

কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তা ঋণে প্রভিশন কমালো

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ ভোক্তা ঋণের বিপরীতে সাধারণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা ‘প্রভিশন’ সংরক্ষণের হার ...

Scroll Up
%d bloggers like this: