এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঔপন্যাসিক এবং ভারতের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কমলা ভাসিন মারা গেছেন। ভারতের স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুখে ভুগছিলেন কমলা। তার ফুসফুসে পানি জমে যায়। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অবস্থা খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার ভোরে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন কমলা ভাসিন আর নেই। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে থেকেই তার ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল।
দিনের শুরুতেই কমলা ভাসিনের মৃত্যু সংবাদটি নেটিজেনদের সামনে আনেন সমাজকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের প্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টর দিকে মারা গেছেন। ভারতীয় নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে, তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেই এটা একটা বিরাট ধাক্কা। যতই প্রতিকূলতা আসুক তার বিরুদ্ধে কমলা লড়ে গেছেন। আমাদের হৃদয়ে কমলা থাকবেন।’
কমলার নেতৃত্বে শক্তিশালী হয় ভারতের নারী আন্দোলন। ফেমিনিস্ট হিসেবেই তাকে চেনে ভারতবাসী। যদিও নারীবাদী আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একাধারে সমাজকর্মী, লেখিকা ছিলেন তিনি।
সত্তরের দশক থেকেই নারী আন্দোলন নিয়ে সোচ্চার কমলা ভাসিন। ২০০২ সালে তিনি সঙ্গত নামক একটি ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রান্তিক আদিবাসী নারীদের প্রশিক্ষিত করার কাজ করতেন কমলা। এর পাশাপাশি লিঙ্গ তত্ত্ব, সমতা, মানবাধিকার, পুরুষতন্ত্র নিয়ে লেখা কমলার বইগুলো অন্তত ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা কমলা খুব সহজেই প্রান্তিক নারীদের সমস্যার কথা বুঝতেন। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে কমলা ভারতে ফিরে আসেন। বাকি জীবনটা তিনি কাটান ভারতের প্রান্তিক নারীদের সমানাধিকারের কথা বলে। বিজ্ঞাপনী পণ্যতে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা মুখ খুলেছেন কমলা। এক কথায় বললে ভারতীয় নারী আন্দোলনের প্রাণভোমরা ছিলেন কমলা। তার মৃত্যু ভারতীয় নারী আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

