এমএনএ রাজনীতি ডেস্ক : যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগের। সাংগঠনিক ভীত মজবুত থাকায় দলের নেতাকর্মীদের মনোবলও চাঙ্গা। এ অবস্থায় বিএনপির কোনো ধরনের আন্দোলনের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। বিএনপি বলে আসছে বর্তমান ইসি ও সরকারের অধীনে তারা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ নানা ইস্যুতে কর্মসূচির মাধ্যমে হার্ডলাইনে যাবে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, বিএনপি ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদেরটা বেশি দেখে। বিএনপি যারা পরিচালনা করে, বিদেশি শক্তি বা প্রভু, তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য সবকিছু করতে পারে। বিদেশিদের সন্তুষ্ট করেই তারা ক্ষমতার পালাবদলে বিশ্বাস করে। জনগণের আস্থায় গিয়ে ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার চিন্তা করে না। এ কারণে তারা দেশের মানুষের অধিকার, চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাজনীতি করে না। তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক, আওয়ামী লীগ জনগণকে নিয়ে তা মোকাবিলা করবে।
তারা বলেন, বিএনপি খুনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। খুনিদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দেশ-বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এত কিছুর পরও সেই অপশক্তি একই ধারায় বিএনপিকে চালাচ্ছে। তারা সফল হচ্ছে না। কিন্তু ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। আমরা ধরেই নিয়েছি, এবারও এরা ষড়যন্ত্র করবে। যেনতেনভাবে ক্ষমতা ধরাই তাদের টার্গেট। দেশের মানুষের কতটুকু মঙ্গল হলো কি হলো না, সেটি তারা ভাবে না। তারা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ও স্বার্থের রাজনীতি করে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছে, যেটি হাইকোর্টের মাধ্যমে মীমাংসিত ইস্যু। কারণ এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনটি গত ৫০ বছরের ঝুলে থাকা আইন। এটি কোনো সরকার করতে পারেনি। যেটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার করেছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি রাজনৈতিক দল। গত ৫০ বছরের ঝুলে থাকা নির্বাচন কমিশন আইন এই দলের মাধ্যমেই পাস হয়েছে। একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আইনটি প্রতিপালন করা নৈতিক দায়িত্ব। আওয়ামী লীগ ও দলের নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। বিএনপি এমনই একটি রাজনৈতিক দল, তারা সবকিছুতেই বিরোধিতা করে। তাদের কর্মকা-ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে যাতে আরও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সেই কাজগুলোই করছে। আমরাও চেষ্টা করব, তাদের নেগেটিভ কাজগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। যাতে তারা আরও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনে আসা না আসা তাদের বিষয়।
তিনি বলেন, বিএনপির যেকোনো প্রতিহিংসার কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ। আমাদের রাজনীতি জনগণের সঙ্গে। জনগণই আওয়ামী লীগের সম্পদ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকা- মোকাবিলা করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজ করবে। তারা গত ১৩ বছরেও কোনো আন্দোলন সংগ্রামে সফল হতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিএনপি বিচার মানে, কিন্তু তাল গাছ আমার।’ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম মানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও তার মুক্তি। তারেক রহমানে মুক্তি। এর বাইরে তারা কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। তারা আর কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আসতে পারবে না। কারণ তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা শুধু হুমকি-ধমকি দেয়। কিন্তু মাঠে থাকতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরের যেটি হয়নি, সেই নির্বাচন কমিশন আইন এই সরকার পাস করেছে। তাদেরই বুদ্ধিজীবী ড. স্বাধীন মালিক বলেছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে ইসি আইন করা সম্ভব। যখন আইনটি পাস হলো তখন তিনি বলছেন, এত দ্রুত সময়ে এটি করা ঠিক হয়নি। আসলে তারা কখন কী বলেন তা বলা মুশকিল। এই আইনের মাধ্যমেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি কোর্টের মাধ্যমে মীমাংসিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা অনেক দাবি করবেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের সম্পর্কে দেশের মানুষ জানে। তারা মানুষ খুন করেছে। পশু পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আদালতে বোমা হামলা করেছে। ছাত্রছাত্রীদের হত্যা করেছে। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী লীগ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া একটি দল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। খালেদা জিয়ার আমলে দুর্নীতিতে ৫ বার প্রথম হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। কিন্তু তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের র্যাব, সেনাবাহিনী জাতিসংঘে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা লবিং করেছে। তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এই দলটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে দেশের বিরুদ্ধে নিবন্ধ লিখেছেন। আসলে বিএনপি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। দেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং নেই। পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ী ও কর্ণফুলী টানেলসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। কোনো মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আর বিএনপি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের দল। এটাই বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের প্রধান কাজ স্বাধীনতাকে রক্ষা করা ও সংবিধান সমুন্নত রাখা। বিএনপির গায়ে এখনও বোমার গন্ধ। তাদের গায়ে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের ছবি। তারা যদি আগামী দ্বাদশ নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়, সেখানে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি রয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ আন্দোলন-সংগ্রামের একটি দল। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের যেকোনো সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকা- মোকাবিলা করবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসবাদকে মেনে নেব না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন দিয়ে গেছেন, কিন্তু কম্প্রোমাইজ করেননি। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স্বাধীনতা রক্ষা ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে কোনো আপস করবেন না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

