Don't Miss
Home / সারাদেশ / ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান

ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় একটি মানহানির মামলায় জামিন নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের বেপরোয়া হামলার শিকার হয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান।

আজ রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আদালতের বারান্দা থেকে বের হয়ে প্রাইভেটকারে ওঠার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ।

হামলায় মাহমুদুরের মাথা ও মুখ জখম হয়েছে। এছাড়া তার বহনকারী গাড়িটিও ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা একটি মানহানি মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে কুষ্টিয়া আদালতে যান।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিকীকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্যে দেওয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা মানহানির মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

আজ রবিবার বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে স্থায়ীভাবে এই জামিন মঞ্জুর করেন।

২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলাটি করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার। ওই মামলায় ওয়ারেন্ট জারি করেছিল আদালত।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতে জামিন নিতে যান মাহমুদুর রহমান। আদালতে দাঁড়িয়ে জামিন চাইলে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন।

তার জামিন মঞ্জুর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেতারা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এজলাসের ভেতর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

চার ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় বাইরে বের হলে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হকিষ্টিক ও লাঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে পেটাতে থাকে।

হামলায় মাহমুদুর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কুষ্টিয়ার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু জানান, দীর্ঘ সময় তিনি অবরুদ্ধ থাকার পর বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে তিনি লিখিতভাবে পুলিশ প্রোটেকশনের জন্য আবেদন করেন।

পরে তিনি আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হন। পরে তার গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে যাচ্ছেন- এমন খবরে আগে থেকে আদালত চত্বরে ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ও সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদের নেতৃত্বে অর্ধশত ছাত্রলীগ কর্মী লাঠি-সোটা হাতে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। এছাড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারাও কালো পতাকা মিছিল করেন।

সকালে সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হলেও হামলার ভয়ে আদালতের এজলাসে অবস্থান নেন তিনি। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বললে তিনি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে উঠে রওনা হন। গাড়িতে ওঠার পর পরই অচমকা তার ওপর প্রথমে সেন্ডেল ছুড়ে মারেন এক ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর চারিদিক থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়ে যায়।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতের বারান্দায় বসে তিনি হামলার প্রতিবাদ করেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, এখানে প্রয়োজনে জীবন দেব। দেশের জন্য, ইসলামের জন্য জীবন দেব।

তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা হয়েছে। এর জন্য একদিন তাদেরও আদালতের কাঁঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই অাচমকা তার ওপর হামলা হয়েছে। তবে পুলিশ না থাকলে আরো বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন, আমাদের দলের একজন নেতার দায়ের করা মামলায় তিনি জামিন নিতে এসেছিলেন। আমরা সেখানে বিকেল পর্যন্ত ছিলাম। আমাদের চলে আসার পর কারা হামলা করেছে তা বলতে পারব না।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার বলেন,‘ভাই আমরা ব্যবসা বাণিজ্য করে খাই, মারপিটের বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই ভাই।’

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...