এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা একটি ব্যর্থ সংস্থা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
তিনি বলেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তারা একটু সহযোগিতা করলে এ সমস্যা দূর হতো। কিন্তু তারা এসব বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পেছনে ছুটছে। নির্বাচিত মেয়র সত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ঢাকা ওয়াসা একটি ব্যর্থ সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘ঢাকা উৎসব-২০১৭’ এর উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াসাকে কার্যকর করে তুলতে এর নেতৃত্বে পরিবর্তন অথবা সিটি কর্পোরেশনের সাথে একীভূত করার প্রয়োজন বোধ করেন মেয়র সাঈদ খোকন।
তিনি বলেন, এই ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি থাকে না। যেখানে পানি যায় সেখানে আবার দুর্গন্ধযুক্ত পানি যায়। এসব সমস্যা নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে বললে তারা বলে বরাদ্দ নেই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। হয় ঢাকা ওয়াসাকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাথে একীভূত করতে হবে, না হয় ওয়াসার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে ওয়াসার সহযোগিতা কামনা করে সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহেরর এই সমস্যা নিরসনে কি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে? এর জন্য শুধু দরকার ঢাকা ওয়োসার মনোযোগ। তারা যদি আমাদের সাথে সহযোগিতা করে এবং মনোযোগী হয় তাহলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। কিন্তু তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন মেয়র। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে আমাদের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রায় ২৬টি সংস্থা আছে। এদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে আমাদেরকে বেশ পরিমাণ বেগ পেতে হয়। এমন অনেক কিছু রয়েছে যা আমাদের সিটি কর্পোরেশনের ম্যান্ডেটের মধ্যে থাকে না। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই এই সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে শিগগিরই তা ক্রমান্বয়ে সমাধান করা হবে। এতে এক রাস্তা সাতবার কাটা বন্ধ হবে।
মেয়র বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের সরাসরি এখতিয়ার নেই। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণ আমাদের থেকে আশা করে। আমাদেরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
মেয়র বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সাইকেলে চলাচলের সুবিধার্থে ক্যাম্পাস এলাকায় একটি বাইসাইকেল লেন করে দেওয়া হবে। ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন ও সহায়তা করতে হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকার পরিবেশ বদলে যেতে শুরু করেছে। এর উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ নগর গড়া নগর পিতার কাজ। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বড় ও আধুনিক মিলনায়তন তৈরি করে দেওয়ার জন্য মেয়রের কাছে দাবি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি রায়হানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, ২১ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যথাক্রমে এম এ হামিদ খান ও হাসিবুর রহমান, ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল কবীর, মডারেটর ঢাবির অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিতর্ক, বারোয়ারি বিতর্ক, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, সংগীত ও ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটি। এতে ঢাকা শহরের ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় টিএসসির সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। পরে র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসিতে এসে শেষ হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

