Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / জাতীয় স্বার্থে আপস নয়, বিএনপিকে জামায়াত আমিরের কড়া সমালোচনা

জাতীয় স্বার্থে আপস নয়, বিএনপিকে জামায়াত আমিরের কড়া সমালোচনা

এমএনএ প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো পক্ষের সঙ্গে আপস করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংবিধানের কিছু অংশ মানলেও অন্য অংশ উপেক্ষা করছে, যা জনগণ বুঝতে পারছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ভোটের একটি গ্রহণ করে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করা যুক্তিসংগত নয়। তিনি রূপকভাবে বলেন, “একই তরকারির গোশত খেয়ে ঝোল হারাম বলা যায় না।” তার মতে, জনগণের রায় নিয়ে দ্বৈত অবস্থান গ্রহণ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, শাসক পরিবর্তন হলেও শোষণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে তিনি সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বিএনপির প্রতি সমালোচনা অব্যাহত রেখে তিনি বলেন, সংবিধানে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। “এদের কে নির্বাচন করল?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়কে অস্বীকার বা খাটো করে দেখার প্রবণতা পরিণামে নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে। “ভোটের অধিকার জনগণের, কোনো দলের নয়,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বৈষম্য ও অধিকারহীনতার কারণে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি শাসকদের দমন-পীড়নের পরও জনগণের আকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়নি এবং শেষ পর্যন্ত দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

তবে স্বাধীনতার পর প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে তিনি নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেন। তার মতে, প্রকৃত দুর্নীতি শুধু অর্থ লুটপাট নয়; বরং মানুষের অধিকার হরণ এবং অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোও বড় ধরনের দুর্নীতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধান বক্তা ছিলেন অলি আহমদ। সভাপতিত্ব করেন আবদুস সবুর ফকির এবং সঞ্চালনা করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং শেষে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করা হয়।

x

Check Also

লাভজনক হয়েও ১০১ কোটি টাকা পরিশোধে বিএসসির গড়িমসি, বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার ...