Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / টাইগারদের সিরিজ জয়ের টার্গেট ২৮১

টাইগারদের সিরিজ জয়ের টার্গেট ২৮১

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা টাইগারদের সিরিজ জয়ের টার্গেট ২৮১ রানের। ম্যাচ জিতলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে সিরিজ জিতবে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমেও হতাশায় ডুবিয়েছে টাইগারেরা। মাত্র চার ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে সবকিছু হিসেব নিকেশ ওলটপালট করে দিয়েছে তামিম-সাব্বির-মুশফিক। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৮১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

টাইগারদের পক্ষে ওপেনিংয়ে নামেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ওভারে উইকেট কিপার ও স্লিপের ফাঁক গলিয়ে একটি চার আদায় করে নেন তামিম। তবে কুলাসেকারার ওভারের শেষ বলে একটি ক্যাচ উঠে।তামিমের দাবি ছিল বলটি প্যাড থেকে এসেছে। পরে থার্ড আম্পায়রকে ডাকা হলে তিনি আউটের সিদ্ধান্ত জানান।পরে ৬ বলে চার রান করা নাখোশ তামিম মাথা নাড়তে নাড়তে মাঠ ছাড়েন।

তামিমের পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে মাঠে নামেন সাব্বির রহমান। তবে ভাগ্য দেবী খুব মনে হয় সুপ্রসন্ন ছিলেন না তার উপর। সেই কুলাসেকারার ওভারেই অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের একটি বল খেলতে গিয়ে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তিন বল খেলে সাব্বিরের সংগ্রহ ছিল শূন্য।

এরপর চতুর্থ ওভারে লাকমালের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে শূন্য রানেই মাঠ ছাড়েন টাইগারদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ততক্ষণে চার ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৪ রান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে দলীয় রান ৩০। সৌম্য সরকার ২৫ বলে ১৭ এবং সাকিব আল হাসান ১৩ বলে ৯ রানে ক্রিজে রয়েছেন।

সিরিজ নিশ্চিত করতে লাল-সবুজদের একাদশে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ম্যাচের স্কোয়াডটি রেখে মাঠে নামে টাইগাররা। ছোটো ছোটো জুটি গড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলংকা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। এছাড়া থিসারা পেরেরা করেন ৫২ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৬৫ রানে ৩টি, মোস্তাফিজুর রহমান ৫৫ রানে ২টি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ রানের বিনিময়ে ১টি করে উইকেট নেন। উইকেট পাননি সাকিব, মোসাদ্দেক আর মাহমুদুল্লাহ।

আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা।

টাইগারদের বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন মোস্তাফিজ। লঙ্কানদের ইনিংস শুরু করেন উপুল থারাঙ্গা এবং দানুসকা গুনাথিলাকা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ম্যাশের বলে ক্যাচ তুলে দেন গুনাথিলাকা। বল করে নিজেই ক্যাচটি মুঠোবন্দি করতে চেয়েছিলেন টাইগার দলপতি। হাত ফসকে মিডঅনে থাকা তামিমের দিকে বল চলে যায়। তামিমও বেশ খানিকটা দৌড়ে আসলেও ক্যাচটি নিতে পারেননি।

চতুর্থ ওভারে থারাঙ্গাকে এলবির ফাঁদে ফেলে আবেদন করেন মোস্তাফিজ। তাতে আম্পায়ার কোনো সাড়া দেননি। ওদিকে টস হেরে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকরা বেশ আক্রমণাত্মকভাবেই খেলা শুরু করে। প্রথম ১০ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলে ৭৬ রান।

ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। টাইগারদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আগের দুই ওভারে ১৬ রান দিলেও মাশরাফি মিরাজের ওপর আস্থা হারাননি। এই অফস্পিনার বিদায় করেন ওপেনার দানুসকা গুনাথিলাকাকে। ৩৮ বল মোকাবেলা করে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলীয় ৭৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। মিরাজ পান মেডেন উইকেট।

অসাধারণ এক ডেলিভারিতে এরপর লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানেন টাইগারদের গতির ঝড় তোলা তাসকিন আহমেদ। ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়ে বিদায়ের আগে থারাঙ্গার ব্যাট
থেকে আসে ৩৫ রান। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে তাসকিনের বল উড়িয়ে দেয় স্ট্যাম্পস। ৩৫ বলে পাঁচটি চার আর একটি ছক্কায় লঙ্কান দলপতি থারাঙ্গা তার ইনিংসটি সাজান। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

থারাঙ্গার বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন দিনেশ চান্ডিমাল। তাকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলীয় সংগ্রহে ৪৯ রান যোগ করেন কুশল মেন্ডিস। দলীয় ১৩৬ রানে দিনেশ চান্ডিমালের রান আউটে ভাঙে জুটি। চান্ডিমাল করেন ২১ রান।

চান্ডিমাল ফেরার পর ব্যাট করতে নামা মিলিন্দা সিরিবর্ধনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। চান্ডিমালের মতো তিনিও ফেরেন রান আউট হয়ে। দলীয় ১৬১ রানে সাজঘরে ফেরার আগে সিরিবর্ধনে করেন ১২ রান।

দলের চতুর্থ উইকেটের পতনের পর ব্যাট করতে নামেন আসেলা গুণারত্নে। কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে জুটি বেঁধে পঞ্চম উইকেট জুটিতে তিনি দলীয় সংগ্রহে যোগ করেন ৩৩ রান। দলীয় ১৯৪ রানে কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার অফ কাটারে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মেন্ডিস করেন ৫৪ রান।

ইনিংসের ৪৪তম ওভারে দলীয় ২১৬ রানে শ্রীলংকার ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। অধিনায়ক মাশরাফির করা ওই ওভারের তৃতীয় বলে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আসেলা গুণারত্নে। তিনি করেন ৩৪ রান।

পরের ওভারেই বোলিংয়ে এসে আবার আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। এবার তার অফ কাটারে কাটা পড়েন লংকান ব্যাটসম্যান সেক্কুগে প্রসন্ন। মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ১ রান। শ্রীলংকার রান তখন ৭ উইকেটে ২৩০ রান।

এরপর ব্যাট করতে নামা দিলরুয়ান পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৪.৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান যোগ করেন থিসারা পেরেরা। মাশরাফির করা ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ২৭৫ রানে দিলরুয়ান পেরেরা আউট হয়ে ফিরলে শ্রীলংকার অষ্টম উইকেটের পতন হয়। তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে পেরেরা করেন ১৫ রান।

এরপর একই ওভারের পঞ্চম বলে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অর্ধশতক তুলে নেওয়া থিসারা পেরেরা। তিনি করেন ৫২ রান।

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের শততম টেস্টে জয়ের পর (১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ শেষ হয়) রাঙ্গিরি ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টাইগারদের ৯০ রানের দাপুটে জয়ের পর আশা করা হচ্ছিল দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই দাপট অব্যাহত রেখে ডাম্বুলা দিয়েই লঙ্কাবধের মহাকাব্য লিখবে বাংলাদেশ। কিন্তু, সেটি হয়নি ক্রিকেটে সব সময়ের অনাহুত অতিথি ‘বৃষ্টি’ বাধায়। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় তৃতীয় ও শেষ ওডিআই এখন সিরিজ নির্ধারণী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিতলে টাইগাররা ২-০ তে সিরিজ নিজেদের করে নেবে। আর হারলে লঙ্কানরা ভাগ বসাবে সিরিজে (১-১)।

স্বাগতিকদের চেয়ে সফরকারীরা এগিয়ে থাকছে শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতায়, পাশাপাশি সাথে থাকছে টইটুম্বুর আত্মবিশ্বাসও। দেশের মাটিতে চেনা কন্ডিশনে ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষদের হারিয়ে আসছে বাংলাদেশ দল। সবশেষ সাতটি হোম সিরিজের ছয়টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। সময় এবার দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও সাফল্য আদায় করা।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলংকা দল: ধানুষ্কা গুণাথিলকা, উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল (উইকেটরক্ষক),আসেলা গুণারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সেক্কুগে প্রসন্ন, নুয়ান কুলাসেকারা ও সুরঙ্গা লাকমল।

x

Check Also

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে ১৮ এপ্রিল, আজ রাতে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি সৌদি সরকারের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ ...