Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ডিসি সম্মেলন শুরু: পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতায় জোর, সুশাসন ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিসি সম্মেলন শুরু: পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতায় জোর, সুশাসন ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদ

জেলা প্রশাসকদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব—যার প্রমাণ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা তার উদাহরণ।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে তা সাময়িক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এতে প্রশাসন দুর্নীতির দিকে ধাবিত হয় এবং নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

তিনি জানান, সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি করা হবে—এটাই সরকারের নীতি।

ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে কাজ করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। এতে জনসেবার মান বাড়বে।

“ডিসিরাই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করেন, তাই সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল,”—বলেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল” উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগ, শিক্ষা ব্যবস্থা ও দুদক কার্যকারিতা হারিয়েছিল এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান সংকট সত্ত্বেও সরকার একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে।

নির্বাচনী ইশতেহার ও “জুলাই সনদ”-এর প্রতিটি অঙ্গীকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ নিশ্চিত করা; মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম জোরদার করা; জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা; সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা।

এছাড়া তিনি সব জেলায় সারা বছর শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজনের নির্দেশ দেন।

বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বন্যা ও খরা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চারদিনব্যাপী এ সম্মেলন ৬ মে শেষ হবে। এতে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক অংশ নিচ্ছেন। ডিসিদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১,৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে হেঁটে মিলনায়তনে পৌঁছান। এ সময় পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান, যার জবাব তিনি হাত নেড়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ বৈষম্য দূর করা সম্ভব না হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য।

ডিসি সম্মেলন-২০২৬ উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, সুশাসন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে একটি সমন্বিত রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

x

Check Also

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আস্থার সংকট: সমালোচনা করার সুযোগ আছে, তবে বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে

এমএনএ প্রতিবেদক বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বর্তমান সময়ে ...