সংসদ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদে সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্পিকার নির্বাচনের জন্য বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম তা সমর্থন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।
একই অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার পদে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন মিজান তা সমর্থন করেন। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদ অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন সভাপতিত্বকারী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে তিনি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকেও শপথবাক্য পাঠ করান। দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ পদে কোনো প্রার্থী দেয়নি। দলটির অভিযোগ, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
বুধবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা। তিনি বলেন, “আমরা খণ্ডিতভাবে কিছু চাই না। আমরা চাই পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়ন হোক, যাতে তার ভিত্তিতে আমরা আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।”
ফলে বিরোধী দলের কোনো মনোনয়ন না থাকায় ডেপুটি স্পিকার পদেও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যই নির্বাচিত হন।
অধিবেশন শুরুর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আবারও সংসদীয় রাজনীতির ধারায় ফিরে আসা সম্ভব হয়েছে। তিনি এতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজমুদ্দিন) আসন থেকে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-1 (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে প্রায় ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মা বেগম যোবায়দা কামাল।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

