Don't Miss
Home / জাতীয় / দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসেই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে সরকার বিব্রত

দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসেই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে সরকার বিব্রত

বিশেষ প্রতিবেদন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাস না পেরোতেই মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডদের আচরণ, সাংবাদিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। কিছু ঘটনায় আপত্তিকর অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গুরুতর অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “আইন ও বিধি ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না”—এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে: ঝিনাইদহের ডিসি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ: এক নারী ইউএনওর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়, যেখানে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি ভাইরাল হলে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন: একাধিক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি দাবি করেন এটি এআই-নির্ভর বিকৃত ভিডিও, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তাকে ওএসডি করা হয়।

কুড়িগ্রাম সদর এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম: এক সাংবাদিক ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। গাইবান্ধা সদর এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবু: “প্রেস ক্লাবের সদস্য না হলে কেউ সাংবাদিক নয়”—এমন মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

কুমিল্লার চান্দিনা এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর: অফিসে ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠান। পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের নিকলী এসিল্যান্ড প্রতীক দত্ত: এক সাংবাদিককে আটক করার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, এসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনের ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে। তার ভাষায়:

“আগে ডিসিরা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজকর্ম, আচরণ ও চলাফেরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। এখন সেই পারিবারিক ও দায়বদ্ধ সম্পর্কটা দুর্বল হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, ‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়া বা কাউকে আটক করা—এসব আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানিয়েছেন, কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আইনভঙ্গ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। সরকার তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।

বর্তমান পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে- শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতির কারণে মাঠ প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড দুর্বল হলে এ ধরনের আচরণ বাড়তে পারে। সাংবাদিক-প্রশাসন সম্পর্কের অবনতিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য নেতিবাচক সংকেত। এআই-নির্ভর ভুয়া কনটেন্ট (যদি সত্য হয়) প্রশাসনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

অভিযুক্তদের প্রত্যাহার করা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির ইঙ্গিত দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠ প্রশাসন সরকারের মুখ্য কার্যকরী বাহিনী। তাদের আচরণে বিচ্যুতি শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তি নয়, পুরো সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তি নয়, প্রশিক্ষণ, জবাবদিহিতা এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ।

x

Check Also

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু, আহত বেশ কয়েকজন

এমএনএ প্রতিবেদক দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর ...