Don't Miss
Home / সারাদেশ / নজরদারির ঘাটতিতে আবারও অশান্ত সুন্দরবন, ২০ জেলে এখনও জিম্মি

নজরদারির ঘাটতিতে আবারও অশান্ত সুন্দরবন, ২০ জেলে এখনও জিম্মি

খুলনা প্রতিনিধি

নজরদারির ঘাটতি ও সাম্প্রতিক অস্থিরতার সুযোগে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, অস্ত্রের মুখে লুটপাট এবং নতুন নতুন দস্যু দলের বিচরণে উপকূলজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অপহরণের ১০ দিন পার হলেও মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনজুড়ে ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু করেছে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী।

৫০ জেলে অপহরণ, মাছ ধরা বন্ধ

স্থানীয় বনজীবীদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। দস্যুরা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ট্রলার থামিয়ে জেলেদের জিম্মি করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। প্রাণভয়ে বহু জেলে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার জেলে ও তাদের পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। দুবলা চরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো ট্রলার ও নৌকা এখন তীরে নোঙর করা।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল আহমেদ বলেন, মাছ ধরার শেষ মৌসুমে এমন আতঙ্কে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

২০ জেলের মুক্তিপণ দাবি ৭০ লাখ টাকা

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। প্রত্যেক জেলের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। মহাজনদের সঙ্গে দস্যুদের দরকষাকষি চললেও এখনো কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।

দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, দস্যুরা চাঁদা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদনকেন্দ্রে মাছ সংকট দেখা দিয়েছে; ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন।

‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণার ছয় বছর পর ফের দাপট

২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ সদস্য ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজারের বেশি গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সরকার সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করে। এরপর কয়েক বছর বনাঞ্চলে শান্তি বিরাজ করে।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। বনজীবীদের অভিযোগ, আত্মসমর্পণকারীদের অন্তত ১৩ জন আবার দস্যুতায় ফিরেছেন। বর্তমানে আত্মসমর্পণকারী ও নতুন সদস্য মিলিয়ে অন্তত ২০টি বাহিনী সক্রিয়। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর, মঞ্জুর ও দাদাভাই বাহিনীকে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সশস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করছেন ভুক্তভোগীরা।

যৌথ বাহিনীর ‘কম্বিং অপারেশন’

খুলনা র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নিস্তার আহমেদ জানান, জেলে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্র ও উপকূলে নিরাপত্তা জোরদার করতে মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে কাউকে আটক বা উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারাও জানান, সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরকারের অবস্থান

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ইকো-ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অনিশ্চয়তায় উপকূল

অপহরণ, চাঁদাবাজি ও দস্যু তৎপরতায় উপকূলীয় জনপদে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জিম্মিদের দ্রুত উদ্ধার না হলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

x

Check Also

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫৩ মনোনয়নপত্র জমা

এমএনএ প্রতিবেদক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র ...