নাইজেরিয়ায় লাসা জ্বরে ৭২ জনের মৃত্যু
Posted by: News Desk
March 3, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : পশ্চিম আফিকার দেশে নাইজেরিয়ার লাগোসে লাসা নামক ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ বছর ৭২ জন মারা গেছেন। এতে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৩১৭ জন। আরো ৭৬৪ জনের ভয়াবহ এই সংক্রামক জ্বর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশটিতে এই জ্বর আক্রান্ত দুই হাজার ৮৪৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা একজন মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৫ শতাংশই এই জ্বরে আক্রান্ত।
নাইজেরিয়ার প্রধান রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, লাসা জ্বরে এই পর্যন্ত ২২ শতাংশ রোগী মারা গেছেন। এই মহামারি দেশটির ১৮টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে হাসপাতালে এসব রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে ১৪ স্বাস্থ্যকর্মীও এই জ্বরে আক্রান্ত হন। যার মধ্যে চারজন মারা গেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, লাসা জ্বর হচ্ছে সংক্রামিত চর্বি, ইঁদুরের প্রস্রাব দ্বারা দূষিত খ্যাদ্য এবং ইঁদুরের স্পর্শ করা খাবার থেকে। এই রোগের ফলে জ্বরের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং চোখের ও নাকে সংক্রমন হতে পারে।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্যের বিপরীতে দেশটির সরকারি সংস্থা নাইজেরিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) দাবি করেছে প্রাণঘাতী এ লাসা জ্বরে এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫৬ দিনে এই প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দিন দিন লাসা জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে।
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই জ্বরে আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৮৪৫ জনের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নাইজেরিয়ার ইবোনাই, নাসারাওয়া, কোগি, বেন্যু, ওন্ডো এবং এডো প্রদেশের ১৪ স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।
প্রদেশগুলো লাসা জ্বরের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইজ্যাক আডেউয়োল।
লাসা জ্বর কী
লাসা জ্বর (Lassa fever/Lassa hemorrhagic fever) সর্বপথম আবিষ্কার হয় ১৯৬৯ সালে নােইজেরিয়ার বোর্নো প্রদেশের লাসা শহরে। লাসা ভাইরাস নামের এক ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে রোগটি হয়। এই ভাইরাস আবার সহজাতভাবেই ন্যাটাল মাল্টিম্যামেট (Natal multimammate) প্রজাতির ইঁদুরের দেহের অংশ বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এই প্রজাতির ইঁদুরের আদি আবাস সাব-সাহারান আফ্রিকা বা সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলে।
কীভাবে ছড়াচ্ছে লাসা জ্বর
ইঁদুর সাধারণত বদ্ধ, জিনিসপত্রে বোঝাই, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। জায়গাটা যদি খাবারের গুদাম বা স্টোররুম হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ কারণেই লাসা ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
কোনোভাবে ন্যাটাল মাল্টিম্যামেট ইঁদুরের মলমূত্রের সংস্পর্শে এলে মানুষ লাসা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়াও ফাটা বা ক্ষত হওয়া ত্বক অথবা শ্লেষ নিঃসরক ঝিল্লির মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে লাসা জ্বরের জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে।
যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
লাসা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে: জ্বর, মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া, মাংসপেশী ঢিলে হয়ে যাওয়া, বমিভাব, রক্তবমি, ডায়রিয়া (রক্তসহ), পেটব্যথা, কোষ্ঠবদ্ধতা, কাশি। তবে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মতে, ইবোলা এবং মারবার্গের মতো ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের উপসর্গের থেকে লাসা জ্বরের উপসর্গকে আলাদা করা খুব কঠিন।
৭২ জনের মৃত্যু নাইজেরিয়ায় লাসা জ্বরে 2018-03-03