Don't Miss
Home / রাজনীতি / নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই বিএনপি রাতের ভোট তত্ত্ব দেয়: সজীব ওয়াজেদ জয়
সজীব ওয়াজেদ জয়

নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই বিএনপি রাতের ভোট তত্ত্ব দেয়: সজীব ওয়াজেদ জয়

এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি ও তাদের শরীক দলগুলো। ভোটের মাঠে তৎপর না থাকা, জনসংযোগের অভাব, নিজেদের ইশতেহার ভোটারদের কাছে না পৌঁছানো, একাধিক প্রার্থী দিয়ে বাণিজ্য এবং তৃণমূলের কর্মীদের সঠিক বার্তা না দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে ভুরাডুবির মুখোমুখি হয় বিএনপি ও জোটের দলগুলো। আর তাদের এসব দুর্বলতা ঢাকতেই শেষ পর্যন্ত ‘রাতের ভোট তত্ত্ব’ হাজির করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায় তারা।’

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলোর অবস্থান তুলে ধরে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

জয়ের পোস্টের ক্যাপশন: ‘অথচ নির্বাচনের দিন সারাদিন কোনো ধরনের কারচুপি বা ব্যাপক ধরনের অনিয়মের কথা বিএনপির নেতারাও বলেননি। সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন, বিএনপি নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরেই মির্জা ফখরুল-কামাল হোসেনদের ভোল পাল্টে যায় এবং তারা তাদের ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য দিতে থাকেন। এখন পর্যন্ত তাদের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও তারা হাজির করতে পারেননি। বিদেশি পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু বলে রায় দিয়েছিলেন। বিএনপির ভরাডুবির কারণ বিএনপি নিজেই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয় সর্বস্তরের জনগণ। মূল ধারার গণমাধ্যমগুলো নিয়মিত ভোট পরিস্থিতির আপডেট দিতে থাকে দিনব্যাপী। বর্ষীয়ান ভোটাররা জানান, এর আগে এত সুন্দর ভোট হতে দেখেননি তারা। নারী ও তরুণ ভোটাররাও কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এমনকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের শরিকরাও নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে জানান। ভোটকেন্দ্রে অবস্থানরত সব বয়সের ভোটাররা সেখানে কথা বলেছেন। একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, ‘এবার একটা সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। আমার লাইফে এত সুন্দর ভোট আমি দেখিনি।’

এই জাতীয় নির্বাচনেই কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএমের ব্যবহার করা হয়। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নাগরিকরা। তারা বলেন, ‘এই পদ্ধতি অনেক ভালো। এতে ভোট দেয়ার ভোগান্তি নেই।’ তরুণ ভোটারদের বক্তব্যেও সুন্দর পরিবেশের কথা উঠে এসেছে। তারা বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরে তারা অত্যন্ত খুশি। নারী ভোটাররাও জানান একই ধরনের কথা।

তবে হঠাৎ করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি জামায়াত জোটের তারা নির্বাচন বয়কটের কথাও বলেন। বিকেল পাঁচটায় সময় টিভির সংবাদ থেকে দেশবাসী জানতে পারে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘বিএনপির কয়েকজন প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘটনা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, বিএনপি ভোট বর্জন করেনি।’

এর আগে, কোনো বাধা বিঘ্ন ছাড়াই দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালায় বিরোধী জোটের প্রার্থীরা। ২৬ ডিসেম্বর থেকে উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু সমাবেশ করেন মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বগুড়ার একাধিক সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভোট দিয়ে, ভোট গুনে তারপর বাড়ি ফিরবেন সবাই।’

এমনকি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ দেখেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন জোটের সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেন। ভোট দিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি উৎসাহিত হচ্ছি দেখে, এই শীতের সকালেও শীত উপেক্ষা করে অনেক মানুষ এসেছে। আমি খুব খুশি যেখানে ভোট দিয়েছি, এখানে সুষ্ঠু হচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবো, যে নির্বাচনের ফল মেনে নেবো কি না।’

এ দিন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ঠাকুরগাঁও ভোটের পরিবেশকে সুন্দর ও সুষ্ঠু বলে অভিহিত করে বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে পারলে ব্যালট বিপ্লব হবে।’

মির্জা ফখরুল একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, ‘সকাল থেকে আমি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রটির অবস্থা আমি ভালো দেখলাম। এখানে মানুষ ভোট দিতে পারছে।’

ভিডিও প্রতিবেদনটিতে নির্বাচনের দিন শুরু থেকে ভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সন্তুষ্টির কথা জানানো হয়। তৎকালীন বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে মির্জা ফখরুলসহ অন্য নেতাদের সুষ্ঠু ভোটের কথা বলতে শোনা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে নিজেদের হার নিশ্চিত বুঝতে পেরে কেন্দ্র দখল, ভোট চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলতে শুরু করেন বিএনপি ও জোটের নেতারা।

তবে সে সময়ের বিভিন্ন দৈনিক এবং টিভির প্রতিবেদন বলছে ভোটের আগের রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি জামায়াতের নেতারা ভোটকেন্দ্র দখল এবং ভোটের দিন ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের ওপরও হামলা চালায় তারা। সংখ্যালঘুদের ভোট থেকে বিরত রাখার জন্য বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন নির্যাতনও চালায়।

বিদেশিদের চোখে ভোট: ৪০ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রের অভিযোগ আসায় সে সব কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিদেশিরা বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বা অনভিপ্রেত ঘটনা দেখা যায়নি।

বিভিন্ন টিভির সে সময়কার লাইভ অনুষ্ঠানের তথ্য ভিডিও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয় বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রাক নির্বাচনী জরিপে আওয়ামী লীগ ৬৬ শতাংশের বেশি ভোট পাবে বলে তথ্য আসে। এই জরিপের পর নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিভিন্ন স্থানে জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতা সৃষ্টির নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়রা। জোটের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পেরে তারা নাশকতার পথ বেছে নেয়।

নির্বাচনের পথে না হেঁটে নাশকতা করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে বিএনপি ও তাদের জোটের নেতারা। এতে করে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ে। একাধিক প্রার্থী দেয়ার কারণে স্থানীয় কর্মীরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে তা নিয়েও দ্বিধাদন্দ্ব ছিল। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে নির্বাচনের সময় তারা কেন্দ্রে এজেন্টও দিতে পারেনি। এতে করে তাদের ভরাডুবি হয়।

নিজেদের এসব দুর্বলতা ঢাকতেই তারা ‘রাতের ভোটের’ তত্ত্ব নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে।

x

Check Also

আবারও ছড়িয়ে পড়ছে হাম, ২৩.২% শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ ...