Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / পাটপণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী
পাটপণ্য

পাটপণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্টঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাটপণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। এভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। প্রাইভেট পাটনারশিপের মাধ্যমে বিশ্বের কোথায় কোথায় পাট ও পাটপণ্যের বাজার রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।’

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দু’দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্য শেষে তিনি দু’দিনব্যাপী পাট মেলা উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাট নিয়ে যারা হতাশ, সেই হতাশা পার্টির সঙ্গে তিনি নেই। পাট নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী তিনি। যে পণ্যটির কোনো অংশ ফেলনা নয়, সে পণ্যে লোকসান হয় কেমন করে?’

তিনি বলেন, ‘এটাকে কীভাবে লাভজনক করা যায় সে পথ খুঁজে বের করতে হবে। পাট কৃষিপণ্য হিসেবে প্রণোদনা পেতে পারে। আবার পাটজাত পণ্য রফতানিযোগ্য বলে সেখানেও প্রণোদনা পেতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাট চাষ ও আঁশ ছাড়ানোর জন্য আমরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছি। নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি, যাতে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। পাটের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। দেশে-বিদেশে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘পাটশিল্প বিকাশের স্বার্থে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে পাট চাষীদের পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও পাটখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি লাভ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাট শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে। পাটের ন্যায্য মূল্যের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি। এ শিল্পের উন্নয়নে আমরা গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিলাম। গবেষক মাকসুদুল আলম পাট নিয়ে গবেষণা করতে চাইলেন। আমরা তাকে সুযোগ করে দিলাম। এসব কাজ গোপনীয়তার সঙ্গে করতে হয়। তিনি পাটের জন্মরহস্য আবিষ্কার করলেন। আমরা পাটের স্বত্বাধিকার পেলাম। এই গবেষণার মাধ্যমে এখন আমরা নতুন নতুন বীজ উদ্ভাবন ও এর বহুমুখী ব্যবহার করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘পাটের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে মানানসই পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাটশাকে আয়রন বেশি, এটি নানা রোগের প্রতিষেধকও। পাটের পঁচা পাতা জমিকে উর্বর করে। পাট চাষের পর সেই জমিতে ধান চাষ করলে তা বেশি ভালো হয়। জ্বালানি, ঘরের বেঁড়া, কাগজসহ পাট খড়ির বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। বাল্যকালে আমরা পাটখড়ি দিয়ে খেলতাম।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় পাটকলের আধুনিকায়নসহ পাটখাতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা-২০১৩’ কার্যকর করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)। অনুষ্ঠানের শুরুতে থিম সং প্রচার করা হয়। এরপর পাটের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম এমপি।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...