Don't Miss
Home / শিল্প ও বাণিজ্য / পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে বাজার আবারও অস্থির

পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে বাজার আবারও অস্থির

এমএনএ রিপোর্ট : আবারও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেশ কিছু দিন ধরেই পেঁয়াজের একটানা দর বেড়েই চলেছে।
আজ শনিবার একদিনেই সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। আর দু’সপ্তাহে বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। টানা এক মাসে কয়েক দফায় দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এক মাস আগেও কেজি ছিল ৪০ টাকা। এই দর বৃদ্ধিতে অস্বস্তিতে পড়ছেন ত্রেক্রতারা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে খুচরা বিক্রেতা মো. মামুনের কাছে দুই কেজি দেশি পেঁয়াজ চান ক্রেতা মজিবুরে রহমান। বিক্রেতা পেঁয়াজ ওজন করে দিলে ১২০ টাকা দেন ক্রেতা। বিক্রেতা এ দামে পেঁয়াজ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ১৭০ টাকা চান। এ দাম শুনে অবাক হন ক্রেতা। তিনি বলেন, আগের সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজিতে কিনেছেন। দর বেশি থাকায় বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত এক কেজি পেঁয়াজ নেন তিনি।
রান্নার ক্ষেত্রে মসলার অন্যতম প্রধান উপকরণ পেঁয়াজ। পেঁয়াজ ছাড়া বাঙালি গৃহিণীরা রান্নার কথা ভাবতেও পারেন না। ফলে রসনাবিলাসের অতিগুরুত্বপূর্ণ এ পণ্যে সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে এবার রাজধানীসহ সারাদেশেই বেড়েছে পেঁয়াজের দর।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী মো. মামুন বলেন, গত আগস্টে পেঁয়াজের দর বাড়লেও তা কমে যায়। পরে ভারতে দর বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মাসের শুরুতে কিছুটা বেড়েছে। এরপর টানা বৃষ্টিতে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়। তখন থেকেই পাইকাররা পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। দেশি ও আমদানি উভয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে চলেছে। তার মতে, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা না নিলে দাম আরও বাড়তে পারে।
আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও মহাখালী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে কিছু দোকানে আগে কেনা পেঁয়াজের দর কম রাখছেন বিক্রেতারা।
আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দর কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল। ভারতে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির অজুহাতে ১০ অক্টোবর কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। তখন দেশি পেঁয়াজ ৪২ থেকে ৪৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ছিল।
রাষ্ট্রীয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশি পেঁয়াজের দর ৪২ শতাংশ ও আমদানি পেঁয়াজের দর ৬০ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরে একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে দেশি পেঁয়াজ ১০৫ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ১৫০ শতাংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি হয়।
জানা যায়, ভারতের বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম টানা বাড়ছে। আমদানি পেঁয়াজের সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। ভারতে পেঁয়াজের দর বাড়লে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রতি বছর আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। এবারও মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি শুরু হয়েছে।
আমদানিকারকরা বলেন, এক মাস পরে দেশি মুড়ি কাটা পেঁয়াজ আসবে। এ কারণে আমদানি কম হচ্ছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আনছেন। এ পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তাছাড়া দেশি পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমতে পারে বলে জানান বিক্রেতারা।
পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামপুরের আড়তদার ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন সরকার বলেন, আমদানির প্রধান দেশ ভারতে পেঁয়াজের দর বেড়েছে। দেশটিতে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে আগাম মৌসুমের পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির কারণে দেশে আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ ব্যাহত হয়েছে। গত মৌসুমেও দেশি পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে আমদানিতে বেশি দর পড়ছে এবং সরবরাহ ঘাটতি সব মিলে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারওয়ান বাজারের দেশি পেঁয়াজের আড়তদার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পাবনার মোকামে পেঁয়াজের দর অনেক বেশি। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা দরে মোকাম থেকে আনতে হচ্ছে। সব খরচ দিয়ে এ পেঁয়াজ ৭০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
শুধু পেঁয়াজ নয়, বেড়েছে আদার দামও। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি চীনা আদা ১৪০ টাকা ও দেশি আদা ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ ছাড়া কেজিপ্রতি দেশি ও চীনা রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে বেড়ে যাওয়া কাঁচামরিচের দর কমেছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দর উঠে ছিল। অন্যান্য সবজির দর স্থিতিশীল আছে। গত সোমবার থেকে বাজারে সস্তায় মিলছে ইলিশ।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরে প্রথম ছুটির দিনে গতকাল শুক্রবার জমজমাট কেনাবেচা হয়েছে ইলিশের। আজ শনিবারও বিভিন্ন বাজার ঘুরে একইরকম চিত্র চোখে পড়েছে। ছোট ইলিশ প্রতিটি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতিটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের বড় ইলিশ প্রতিটি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
x

Check Also

অস্থিরতা

ব্যাক টু ব্যাক এলসি বন্ধে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনের উদ্যোগ

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : নন-বন্ড রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত দিনে যে নগদ সহায়তা নিয়েছিল, ...

Scroll Up