Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / প্রাথমিক শিক্ষায় বেড়েছে ভর্তি হার, বেড়ে ৯.২ শতাংশ হয়েছে ঝরে পড়া ও শিশুশ্রমও

প্রাথমিক শিক্ষায় বেড়েছে ভর্তি হার, বেড়ে ৯.২ শতাংশ হয়েছে ঝরে পড়া ও শিশুশ্রমও

এমএনএ প্রতিবেদক

দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন ভর্তি নিশ্চিত হলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাঝপথেই ঝরে পড়ছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সেই উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, ফলে দেশে শিশুশ্রমের হারও বাড়ছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত “নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ” শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। এছাড়া সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী সংলাপে অংশ নেন।

প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হার একসময় প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছালেও ২০২৪ সালে তা কমে প্রায় ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ভর্তি নিশ্চিত হলেও অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে উত্তরণের হারও সন্তোষজনক নয়। অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বা মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে।

তিনি জানান, দরিদ্র পরিবার, গ্রামীণ পরিবেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতির কারণে অনেক শিশুকে অল্প বয়সেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশে শিশুশ্রমের হার বেড়েছে। ২০১৯ সালে শিশুশ্রমের হার ছিল প্রায় ৬.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯.২ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় বছরে শিশুশ্রম প্রায় ২.৪ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিপিডির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিক্ষার ব্যয় ও সুযোগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে। দেশে মোট শিক্ষা ব্যয়ের ৫০ শতাংশের বেশি পরিবারগুলোকে নিজেদের অর্থ থেকে বহন করতে হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য শিক্ষার ব্যয় অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে, তবুও গাইড বই, কোচিং ও অতিরিক্ত শিক্ষাসামগ্রীর জন্য পরিবারগুলোকে নিয়মিত ব্যয় করতে হয়। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণের জন্য অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করছেন।

এ ছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা সীমিত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও অনেক স্কুলে নেই। মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধার অভাবও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে।

সংলাপে আরও বলা হয়, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক শ্রমবাজারে শুধু ডিগ্রি নয়, ব্যবহারিক ও মানসিক দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিগ্রি-কেন্দ্রিক কাঠামো থেকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর করা জরুরি। তা না হলে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব কমানো এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

x

Check Also

লাভজনক হয়েও ১০১ কোটি টাকা পরিশোধে বিএসসির গড়িমসি, বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার ...